অডা, তুই কন্তুন অইছত? এসআইকে কাদের মির্জা

37

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রীর ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জিডি করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় কর্মরত পুলিশের এসআই রিয়াদুল হাসানকে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার অনুসারী হামিদের মুঠোফোন থেকে এ হুমকি দেন। এসআইকে তিনি বলেন, ‘অডা (এই বেটা) তুই কন্তুন অইছত?’

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি ও হুমকিপ্রাপ্ত এসআই রিয়াদুল হাসান গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না। তবে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি তো অনেক লোককেই হুমকি দেন, ওসিকে কত উল্টাপাল্টা কথা বলেন। এটা নতুন কিছু নয়। এ রকম ঘটনা কোম্পানীগঞ্জে অনেক। জিডি একটা করে রেখেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার অনুসারী হামিদের মুঠোফোন থেকে এসআই রিয়াদুলের মুঠোফোনে কল দেন। রিয়াদুল কল রিসিভ করার পর হামিদ ফোনটি মেয়র কাদের মির্জার হাতে দেন। মেয়র ফোন নিয়ে বলেন, ‘আমি মেয়র বলছি। এই তোর বাড়ি কই?’

তখন রিয়াদুল বলেন, ‘আমার বাড়ি দিয়ে আপনি কী করবেন?’ তখন মেয়র উত্তেজিত হয়ে তার অনুসারী মিকন, রাজুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের কেনো ধরা (গ্রেপ্তার) হলো, সে অভিযোগ করেন।

একপর্যায়ে মেয়র কাদের মির্জা বলেন, ‘অডা (এই বেটা) তুই কন্তুন অইছত (কোথায় থেকে বের হয়েছ)? এত বড় হনু (ক্ষমতা)! আমার লোকজনরে ধমকাইবি, তোর বিপদ আছে। তোরে অ্যাঁই দেখি নিমু, কই দিলাম (বলে দিলাম তোমাকে আমি দেখে নেব)।’

এরপর মেয়র নিজেই ফোন কেটে দেন। মেয়র ফোন কেটে দেওয়ার পর এসআই রিয়াদুল বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত ও আলোচনা করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে থানা-পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, কোম্পানীগঞ্জে চাকরি করতে এসে গত কয়েক মাসে তাদের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা এর আগে কোনো কর্মস্থলে হয়নি। কোথাও কোনো নেতার মুখ থেকে এভাবে পুলিশ সদস্যদের নাম ধরে অশ্লীল এত কথা তাদের শুনতে হয়নি। এখানে মানসম্মান নিয়ে চাকরি করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। থানার এসআইকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কাদের মির্জার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এই ঘটনার আগে ফেসবুক সাংবাদ সম্মেলন ডেকে কাদের মির্জা নিজের প্রাণনাশের শঙ্কা কথা জানিয়েছিলেন। পরে আবার ফেসবুক লাইভে এসে হত্যার বদলে হত্যার হুমকি দেন তিনি। এই হুমকির একদিন পর আবার ফেসবুক লাইভ করে শান্তির ডাক দেন আলোচিত এই মেয়র।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলপি গ্যাসের দাম আরও কমলো
পরবর্তী নিবন্ধক্যান্ডিতে সেই একই ছবি