‘অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এদেশের গণমাধ্যম মুক্ত এবং স্বাধীন’

14

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনেক উন্নত দেশের তুলনায়ও এদেশের গণমাধ্যম মুক্ত এবং স্বাধীন। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমাজের অব্যক্তদের পক্ষে যেভাবে গণমাধ্যম কথা বলছে সেটি যেন আরো জোরালো হয়। যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে তারা গণমাধ্যমের ওপর ভরসা করে যেন স্বপ্ন দেখে।

আজ সোমবার (৩ মে) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের অপরিসীম শক্তি যার মুখে ভাষা নেই তাকে যেনো ভাষা দিতে পারে, যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে তাকে স্বপ্ন দেখাতে পারে, যার কাছে ক্ষমতা নেই, তাকে ক্ষমতাবান করতে পারে।’

হাছান বলেন, বাংলাদেশে কোনো পত্রিকায় যদি ভুল সংবাদ পরিবেশিত হয়, তার প্রতিবাদ জানালে সংবাদটা যে মাত্রায় পরিবেশিত হয়েছিল প্রতিবাদটা সেই মাত্রায় ছাপানো হয় না। এদেশে ভুল, অসত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য পত্রপত্রিকার কোনো জরিমানা গুণতে হয় না, যেটি উন্নত দেশে গুণতে হয়। উন্নত দেশগুলোতে কোনো ভুল, সংবাদ অসত্য সংবাদ বা কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, হস্তক্ষেপ হয়েছে এমন সংবাদ পরিবেশিত হলে কেউ যখন আইনের আশ্রয় নেন, তাদেরকে জরিমানা গুণতে হয়। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা না, নিয়মিতই সেটি হয়।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালে যুক্তরাজ্যে পৃথিবীর একসময়কার সবচাইতে বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক নিউজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড -এ একটি অসত্য সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক বছর আগে বিবিসিতে একজন এমপির বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে বিবিসির পুরো টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। আমাদের দেশে এই ধরনের ঘটনা ঘটে না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সম্ভবপর নয়, সে বিশ্বাসেই আমাদের সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে, যেটি আগে ছিল না।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংগঠনের বিরূপ মন্তব্যের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নিয়ে যে সমস্ত সংগঠন বিবৃতি দেয় তাদের সাথে একমত হবার কারণ নেই। তারা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। আমাদের কাছে বা তথ্য কমিশনের কাছেও কোনো তথ্য চায় না। তাদের ঢালাও মন্তব্য ঠিক নয় এবং আমরা এগুলোর সাথে একমত নই।’

ড. হাছান বলেন, ‘পৃথিবীতে আগে ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না অর্থাৎ ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও যখন ছিল না, তখন সেখানে নিরাপত্তার জন্য কোনো আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। যখন সেটি এসেছে তখন আইনেরও অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল সিকিউরিটির জন্য সাইবার সিকিউরিটি ২০১৫, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৯ ফ্রেমওয়ার্ক ল’ করেছে, যেটির অধিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেম্বার স্টেটরা প্রত্যেকে আবার নিজেরা আইন করেছে। অস্ট্রেলিয়া সাইবার ক্রিমিনাল অ্যাক্ট ২০০১, সিঙ্গাপুর সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ করা হয়েছে, পাশাপাশি আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান, নেপাল সবদেশেই ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আইন করা হয়েছে, জানান ড. হাছান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সারাদেশে সব মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। একজন সাংবাদিক, লেখক, কৃষক, গৃহিণী, সাধারণ মানুষ, রিক্সাওয়ালা, চাকরিজীবী, শ্রমিক, রাজনৈতিককর্মী সবারই ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এই আইন। অনেক সাংবাদিক এই আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছেন। সেইসাথে এ আইনের অপপ্রয়োগ যেন না হয়, কোনো সাংবাদিক যেন হয়রানির স্বীকার না হন, সেটির সাথে আমি অবশ্যই একমত।’

গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমছে কি না ও নানামুখী চাপের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর বাংলাদেশের মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে, না থাকলে এতো টেলিভিশনও চলতো না, এতোগুলো পত্রিকাও বের হতো না, পাঠকসংখ্যাও বাড়তো না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একইসাথে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধুমাত্র নেতিবাচক সংবাদই প্রচার করা নয়, সমাজের সার্বিক চিত্র পরিস্ফুটন করা। এই করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়নি -এই সাফল্যের গল্পগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আসা প্রয়োজন। তাহলে জাতি আশাবাদী হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।’

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধজান্তার হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা
পরবর্তী নিবন্ধ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভ