অস্থির পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনে কাজ করছে ভারত-বাংলাদেশ: মোদি

19

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত একংবিশ শতকের এই সময়ে অগ্রগতি লাভ করবে। অস্থির পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনে কাজ করছে ভারত-বাংলাদেশ। দুই দেশ বিশ্বকে শান্তি ও ভালোবাসার পথ দেখাবে।

আজ শনিবার (২৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে মতুয়াদের উদেশ্যে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোদী বলেন, বহু দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হল। এছাড়াও বলেন, এই স্থান একভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের আত্মিক সম্পর্কের তীর্থস্থান।

তিনি বলেন, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের দয়ায় আজ এই পবিত্র ভূমিতে আসতে পেরেছি। আমি হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের চরণে মস্তক নত করে প্রণাম জানাই। এখানে আসার পর কয়েকজন সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিশ্বাস করতে পারেননি যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখানে আসতে পারেন। কিন্তু আমি ওড়াকান্দি আসতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা যেরকম শান্তি অনুভব করেন আমিও তেমনি অনুভব করছি।

মোদি বলেন, আমি বাংলাদেশে ১৩০ কোটি ভারতীয় জনতার ভালবাসা নিয়ে এসেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ হওয়ায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। গতকাল ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডে সংস্কৃতি অনুষ্ঠান দেখেছি। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, এখানে আসার আগে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিক্ষেত্রে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আর তার ওপর দেশের লোকেদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা সত্যিই অতুলনীয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। এই ঠাকুরবাড়ি দুই দেশের আত্মীক তীর্থস্থান। আমাদের সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে, আমাদের সম্পর্ক মনের সঙ্গে। ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের বিকাশ ও প্রগতির চেয়ে বিশ্বের উন্নতি দেখতে চায়। হানাহানি-নৃশংসতামুক্ত বিশ্ব দেখতে চায়। প্রেম ও ভালোবাসাময় পৃথিবী দেখতে চায়। আর একই স্বপ্ন ছিল হরিচাঁদ ঠাকুরের। এই মূল্যবোধের কথাই তিনি বলেছিলেন।

মোদি বলেন, হরিচাঁদ ঠাকুর নারী শক্তির বিকাশের কথা বলেছিলেন। তাদের সামাজিক অংশীদারিত্বের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। যেটা সারাবিশ্ব আজ করতে চাচ্ছে। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাণী যদি পড়ি বা স্মরণ করলে মনে হয়, তিনি যেন আগেই জানতে কি হবে। তিনি ভবিষ্যতকে আগেই দেখে নিয়েছিলেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শ্যামনগর এ. সোবাহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নবনির্মিত হ্যালিপ্যাডে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করেন মোদী। সেখান থেকে তিনি কালীমন্দিরে যান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে কালীমন্দিরে পৌঁছানোর পর তাকে বরণ করে নেয়া হয়। সেখানে তিনি বিভিন্ন আচার-আচরণ পালন করেন। এরপর কালীদেবির চরণে পূজা শেষে অংশ নেন প্রার্থনায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫১ পিটের একটি পিট হিসেবে জাগ্রত দেবীর এই তীর্থস্থান পরিদর্শনে আসেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি টুঙ্গিপাড়া পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর নরেন্দ্র মোদী বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশে একটি বকুল ফুলের চারা রোপণ করবেন।

নিউজ হান্ট/এনএইচ