আনভীরকে শুভেচ্ছা জানানোয় ক্রাইম রিপোর্টারদের সংগঠনে ভাঙন

54

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে শুভেচ্ছা জানানোয় অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর কয়েক জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

আনভীর সম্প্রতি শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংগঠনটির বড় একটি অংশ শুভেচ্ছা জানাতে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ চেয়েছেন পারভেজ নাদির রেজা ও মিজানুর রহমান মহিম ওরফে মহিম মিজান নামে দুই সদস্য। তারা দুজনই বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভিতে কাজ করেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ফেসবুক গ্রুপে ‘ক্র্যাবের সাধারণ সদস্য পদ প্রত্যাহারের খোলা চিঠি’ শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করেন নাদির রেজা। সেখানে তিনি দাবি করেন, আনভীরকে শুভেচ্ছা জানানোর পর থেকে পরিবার, সহকর্মী এবং বন্ধুদের কাছে তিনি হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।

এ চিঠির কিছুক্ষণ পরই ‘কিছুটা দায়মুক্তি নেয়ার চেষ্টা’ শিরোনামে মিজানুর রহমান মহিম (মহিম মিজান) তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এটা আবেদন আকারে সভাপতির কাছে দেওয়ার কথা। কিন্তু গত ২ জুন বর্তমান কমিটি যে কাজ করেছে, তাতে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির কাউকেই আর এই সংগঠনের নেতা বলতে ঘৃণাভরে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।’

যারা শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন তাদের দাবি এটা নেহাত ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ ছিল। পুরো বিষয়টিকে তারা ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ’ হিসেবে মন্তব্য করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

মুনিয়া নামে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আনভীরের নামে প্ররোচনার মামলা হয়। সেই থেকে প্রায় মাস খানেক তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। এটি নিয়ে শুরু হয় ‘মিডিয়া পলিটিক্স’।

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিদ্বন্দ্বী গণমাধ্যমগুলো আনভীরের বিরুদ্ধে যায় এমন সংবাদ প্রচারে উঠেপড়ে লাগে। আবার তাদের ‘পক্ষের’ গণমাধ্যমে মুনিয়া এবং তার বোনের সমালোচনা করে সংবাদ প্রচারিত হতে থাক।

এর ভেতর এই মামলায় আলোচনায় আসেন হুইপ ও চট্টগ্রামের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী। তার নামে মামলা করেন মুনিয়ার বোন। তার সঙ্গে মুনিয়ার রহস্যময় একটা যোগাযোগ ছিল। তার প্ররোচনায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন কি না, পুলিশ সে বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে। কারণ মুনিয়ার বোনের কিছু আচরণ তদন্তকারীদের সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআফগানদের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ
পরবর্তী নিবন্ধকালো টাকা সাদা করার অবাধ সুযোগ থেকে সরলো সরকার