আবার দেখা মিললো সু চি’র, মিয়ানমারে নিহত বেড়ে সোয়া ৫শ

22

আজ বুধবার (৩১ মার্চ) আবার ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে (৭৫) দেখানো হয়েছে। এ সময় তিনি আইনজীবীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আর কোনো কথা বলতে পারেননি।

সু চির এক আইনজীবী মিন মিন সোয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সু চিকে দেখে সুস্থ মনে হয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওই ভিডিও কনফারেন্সে সুচি তার আইনজীবীর সঙ্গে একটিমাত্র মামলা নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করে কোথায় রাখা হয়েছে তা এখনও রয়েছে অজ্ঞাত। তবে আজকের আগেও আরও একবার সু চিকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে দেখানো হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে ছয়টি হস্তচালিত রেডিও, করোনা ভাইরাস প্রটোকল ভঙ্গ করা, ঘুষ গ্রহণ সহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগকে বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে শুধু কৌতুক বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ সুচির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা বৃহস্পতিবার।

গত বছরের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। তাতে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভূমিধস জয় পায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর দাবি ওই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলে সেনারা। জারি করে সামরিক শাসন। তারপর থেকেই মিয়ানমার আবার টালমাটাল।

বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথ ছাড়ছে না। সেনাদের গুলির ভয় উপেক্ষা করে অব্যাহতভাবে বিক্ষোভ করছে তারা। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের গুলিতে কমপক্ষে ৫২১ জনের মৃত্য হয়েছে সেখানে। এখন এই লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে সেনাবাহিনী ও জাতিগত সংখ্যালঘু উগ্রপন্থিদের মধ্যে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় খুঁজছে।

সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সেখানে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন সদস্যদের মিয়ানমার ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে। অভ্যুত্থান, সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো এবং মুক্তি দাবি করেছে সু চির। কোনো কোনো দেশ সীমিত পরিসরে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

নিউজ হান্ট/আরকে