এতদিন পর মাশরাফির অবসরের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরোলো

90

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বেশ কিছু অমীমাংসিত রহস্যের একটি ছিল ২০১৭ সালে হুট করেই মাশরাফি বিন মর্তুজার টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া। অথচ সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় টি-টোয়েন্টিতেই তার ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে বেশি। মেঘে মেঘে বেলা গড়িয়েছে, মাশরাফি ছিলেন নীরব।

ঠিক কি কারণে শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস করতে নেমে অবসরের ঘোষণা তা একবারের জন্যও এতদিন সামনে আনলেন না। তবে এবার অনেকটাই পরিষ্কার করলেন পেছনের কাহিনী।
দেশের ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান ইস্যুতে এমনিতেই সরগরম।

তার উপর সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও তুলে ধরলেন নিজের আক্ষেপের গল্পগুলো। যে গল্পের পাতায় পাতায় জড়িয়ে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ক্রিকেটারদের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)।

বিশেষ করে তাকে দল থেকে দূরে সরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ হতাশ দেশের অন্যতম সফল এই পেসার। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে টস করতে নেমে অবসরের ঘোষণা দেওয়া অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার ফিটনেস, চোট কিংবা পারফরম্যান্স সবচেয়ে বেশি সায় দেয় যে ফরম্যাটকে সেটিকেই কিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় বলে দিলেন। অথচ ২০০৯ সালের পর সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অলিখিত অবসর হয়ে গেলেও এখনো দেননি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

মাশরাফি বলছেন সবার বিপরীতে গিয়ে টিকে থাকা দায় ছিল বলেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত। আর সেটি পূর্ব পরিকল্পনার অংশও ছিলনা, সফরের মাঝপথেই নিয়েছেন কঠিন এই সিদ্ধান্ত।

মাশরাফি বলেন, ‘আমি যখন শ্রীলঙ্কায় (২০১৭ সালে) পা রেখে হোটেলে যাই, আমি তখনও ট্রাভেল স্যুটও খুলিনি তখনই নিচে আমার সঙ্গে বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকের পরই আমি ভাবি যে, কিছু একটা গোলমাল আছে। আমি সবসময় বলে আসতাম আমরা সিদ্ধান্তগুলো কিন্তু হুট করেই হবে। আমি যখন বুঝতে পেরেছি সবার বিপরীতে থাকার প্রয়োজন নাই।’

‘ওইখানেও কিন্তু আমাকে করতেই হতো, এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল যে আমাকে করতেই হতো। নিতে হয়েছে, বিস্তারিত যাবো না। আমি কার থেকে সহযোগিতা পেয়েছি দেখান তো আমার টাইমে। ২০১১ বিশ্বকাপে ইনজুরিতে পড়ে ডাক্তার ক্লিয়ারেন্স দেয়ার পরও আমাকে দলে নেয়া হয়নি। ২০১৭ সালে যখন অবসরে গেলাম তখন আমার পাশে কেউ ছিল না দেশের মানুষ ছাড়া।’

এর বাইরে বিসিবি থেকে বারবারই গণমাধ্যমকে বলা হয়েছে মাশরাফিকে তারা অবসরের আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছেন। সে রাজি হলেই আয়োজন করবেন বিদায়ী সম্বর্ধনার। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও মাশরাফি বলছেন এমন কোন আনুষ্ঠানিক আলাপইই তার সাথে করেনি দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নিউজ হান্ট/ম