এবারও কি ‘অটো পাস’?

14

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সাত মাস দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় আগেরবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নিয়ে সব ছাত্রছাত্রীকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার গ্রেডের ভিত্তিতে ‘অটো পাস’ দেয় সরকার। এবারও কী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সাব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম আমিরুল ইসলাম নিউজ হান্টকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে আগে জীবন তারপর পরীক্ষা। এখন যে পরিস্থিতি তাতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না। যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তখন পূর্বঘোষিত ৬০ ও ৮০ কার্যদিবস সরাসরি ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এবার অটোপাস দেওয়ার কোনো চিন্তা-ভাবনা আপাতত নেই।

যদিও ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা এরিমধ্যে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে জুন-জুলাইয়ে এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু হঠাৎ করোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ২২ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আবার পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষা।

২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছে, গত ১১ বছর ধরে ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতো। কিন্তু করোনার কারণে এবার তা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা থাকলেও হঠাৎ করে করোনা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ২৩ মে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তারা জানায়, কিন্তু ওই তারিখে খোলা সম্ভব হবে কি না তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও তারপর ৬০ কার্যদিবস সরাসরি ক্লাস করিয়ে ১৫ দিন বিরতি দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের আগে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। আর ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলা সম্ভব না হলে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে অনিশ্চিত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার সময় চলে আসবে। শিক্ষাবোর্ডগুলোকেও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে এক মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

অপরদিকে ২৩ মে যদি কলেজ খোলা সম্ভব হয় তাহলে ৮০ কর্ম দিবস সরাসরি ক্লাসে পাঠদান শেষ করে অক্টোবরের সপ্তাহের আগে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে না। এই সময়ের মধ্যে ঈদুল আজহাসহ নানা সরকারি ছুটি রয়েছে। আর ২৩ মে কলেজ না খুললে এইচএসসি পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যাবে। এ বছর এ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের মত অটোপাস দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তখনই এসএসসির ক্ষেত্রে ৬০ কার্যদিবস ও এইচএসসির ক্ষেত্রে ৮০ কার্যদিবস সরাসরি ক্লাসে পড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, শিক্ষাবোর্ডগুলো ইতোমধ্যে ২০২১ সালের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে তা ছাপানোর জন্য ইতোমধ্যে বিজিপ্রেসে পাঠিয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে শিক্ষাবোর্ড।

রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলের ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, এসএসসি পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে চার মাস পর খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ৬০ কার্যদিবস ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা নিলে ৭ মাসের একটি গ্যাপ তৈরি হবে। সেটা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় তবে সম্ভব।

তিনি বলেন, কোনো কারণে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে না পারে তবে পরের বছরের ব্যাচের সঙ্গে আমাদের জট লাগবে। তাই আমরা চাই প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অটাপাস দেওয়া হোক।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে স্কুল-কলেজ খোলার পরিবেশ পর্যালোচনায় আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, এসএসসির ৬০ দিন ও এইচএসসির ৮০ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড। এ সিলেবাস শেষ করেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।

গত ২৭ জানুয়ারি এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, স্কুল খোলার পর সরাসরি শ্রেণিকক্ষে এসএসসির ৬০ দিন ও ৮০ দিন এইচএসসির ক্লাস করানো হবে। পরে ওই সিলেবাসের ওপর প্রশ্ন তৈরি করে এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, যদি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় তবেই এটা কার্যকর হবে।

নিউজ হান্ট/ম