এবার লঞ্চের ভাড়াও বাড়ল ৬০ শতাংশ

11

আবারও মহামারি করোনার ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অর্ধেক যাত্রী কমিয়ে আনতে যাত্রীবাহী বাসের পর এবার যাত্রীবাহী লঞ্চেও ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করেছে সরকার। এই ভাড়াবৃদ্ধি ডেক ও চেয়ারের যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। কেবিনের ভাড়া আগেটাই থাকছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে এ ভাড়া। এদিন দুপুরে সচিবালয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন। এজন্যই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে যাত্রী সাধারণকে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া স্থানান্তর না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকদের সঙ্গে ভাড়া আলোচনার পর বাড়ানোর প্রস্তাব বিআইডব্লিউটিএ আমাদের মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। সেটা নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করেছি। আমরা দেখেছি কোভিডে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার স্বার্থে… যদিও লঞ্চের ক্ষেত্রে এটা খুব দুঃসাধ্য ব্যাপার, লঞ্চের নকশাটা এমনভাবে তৈরি করা সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানাটা কঠিন। আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে অনেকগুলো পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। সর্বশেষ আমরা সেটাকে ধরে রাখতে পারিনি, এটাই হচ্ছে সত্য কথা ও বাস্তবতা।

তিনি বলেন, আমরা মনে করেছি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে গেলে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এটা বৃদ্ধি করতে হবে। মালিকরা সম্মত হয়েছে তারা ক্যাপাসিটির অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবেন। সেজন্য আমরা যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ৬০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধি করেছি। যে বৃদ্ধিটা কেবিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এটা আমরা অনুমোদন করেছি।

অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করবে লঞ্চগুলো, তাহলে বাকি অর্ধেক পরিবহনের জন্য লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে কি না— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের লঞ্চের সঙ্কট আছে। আমরা গতকালও যাত্রী সাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, আমাদের প্রয়োজন না হলে আমরা যাতে স্থানান্তর না হই। শক্তি প্রয়োগ করে স্বাস্থ্যবিধি মানানো কঠিন ব্যাপার। সবাই সচেতন না হলে এটা খুব কষ্টসাধ্য। লঞ্চ মালিকরা বলেছেন, সবগুলো লঞ্চই তারা যাত্রী সেবায় নিয়োজিত করবেন। যাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা যায়।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করার জন্য আমরা মালিকদের কঠিনভাবেই বলেছি। এটা করা হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা সহজ হবে। সেই বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের জানিয়েছেন। আমরা একটা কল সেন্টার পাইলট আকারে চালু করেছি, আমরা দেখেছি সেটার সঙ্গে মানুষ যুক্ত হচ্ছে।

নিউজ হান্ট/এনএইচ