ওসি প্রদীপ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কারাগারে

14

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে সাত মাস পর কক্সবাজার জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রদীপকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় তাকে সরাসরি কক্সবাজার জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দুদকের একটি মামলায় আদালতে হাজির হতে গত সাত মাস প্রদীপকে চট্টগ্রাম কারাগারে রাখা হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রদীপকে বহনকারী প্রিজনভ্যান কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌঁছায়। কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার মনির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাখেদ খান।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করে প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র‌্যাবকে।

৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় পুলিশের করা মামলার তিন জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ ছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও।

১৪ আসামিকে র‌্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের মধ্যে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়াও ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিনহা হত্যা মামলায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম।

সিনহা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দুদকের একটি মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে হাজির হতে হচ্ছিল প্রদীপকে। সে কারণে তাকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধটিকা সবাই দেবে বলে, কিন্তু সময় বলে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে ডব্লিউএফপি