কওমি মাদরাসা বন্ধ করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

14

করোনার কারণ দেখিয়ে কওমি মাদরাসা বন্ধ করা হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব।

আজ শুক্রবার (২ এপ্রিল) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

মাওলানা জোনায়েদ আল হাবীব বলেন, করোনার দোহাই দিয়ে মসজিদ বন্ধ করা যাবে না। করোনা আল্লাহ দিয়েছেন। করোনার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে মসজিদে বসেই তার কাছেই মুক্তি চাইবো। সরকারের প্রজ্ঞাপনে কওমি মাদ্রাসা বন্ধের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে এই করোনার দোহাই দিয়ে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ ও ইসলামী সভা-সমাবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।

যদি এবার করোনার দোহাই দিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করা হয় তবে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আল্লামা মামুনুল হক বলেন, হেফাজত কারো তল্পিবাহক নয়। মনঃপুত না হলেই আজ বিএনপি কাল জামায়াত হয়ে যায় না হেফাজত। হেফাজত নিজস্ব শক্তির বলে আল্লাহর উপর ভরসা করে, হেফাজত একাই যথেষ্ট। যখনই দেশের বিরুদ্ধে, ঈমান-আকিদার বিরুদ্ধে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে তখনই হেফাজত কারো রক্তচক্ষু পরোনা না করে রাজপথে নেমে আসবে।

তিনি বলেন, তিনদিনের হেফাজতের আন্দোলনের ঘটনায় আজ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালন করছে। আমাদের তো তা করার কথা ছিল না। আজ বাংলাদেশ এমএমবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ব্যস্ত আছে। বিক্ষোভ কার্যক্রম করার কথা ছিল না। কওমি মাদ্রাসার বড় পরীক্ষা থাকার পারও আজ বিক্ষোভ করছি।

তিনি আরও বলেন, কারো চোখের গরম ও ভয় দেখিয়ে হেফাজতকে দমিয়ে রাখা যাবে না। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া মানে হেফাজত। বাংলাদেশ মানে হেফাজত। ২০টি মায়ের বুক খালি হলো। আইজিপি আপনাকে তো শোক প্রকাশ করতে দেখলাম না। তারা তো মানুষ না হেফাজত।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, দেশটাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। প্রতি বিন্দু রক্তের হিসাব নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আলী কাসেমী বলেন, কারা বায়তুল মোকাররমকে রক্তাক্ত করেছে জানতে চাই। এপর্যন্ত যারা মারা গেছে সবাই পুলিশের গুলিতে। নিহত পরিবারকে এক কোটি করে টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের চিকিৎসা, বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

হেফাজতের অন্যতম নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি বলেন, আমরা আইজিপিকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, পরিস্থিতি দেখবেন নাকি পরিস্থিতি তৈরি করবেন। আপনার উদ্দেশ্যপ্রবণ সদস্যদের থামান। কয়টা হেলমেট কেড়ে এনেছেন যে আমাদের ছুরি নিয়ে গেলেন।

নিউজ হান্ট/এনএইচ