করোনার বাজেটে কোন গাইডলাইন ও রোড ম্যাপ করা হয়নি: ফখরুল

2

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের প্রতি সরকারের কোন দায়িত্ব নেই, চলতি বাজেটে পরিবেশের উপরে বরাদ্দ রাখা হয়নি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ কে না বাচিয়ে মেগা প্রজেক্টে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, করোনার বাজেটে কোন গাইডলাইন ও রোড ম্যাপ করা হয়নি।

আজ শনিবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘বৈশ্বিক দুর্যোগ ; ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কারণীয় শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা’ সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতির ধ্বংস করে তার প্রতি অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে, জিয়া প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দিয়েছিলেন, বিএনপির সরকারের উদ্যোগেই রাস্তার পাশে গাছ লাগানো হয়েছিল।

ঘোষিত বাজেটের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই, জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্বও নেই। দুদিন আগে একটা বাজেট দিয়েছে। সে বাজেটে দেখেন তো পরিবেশ প্রকৃতির ওপর কত টাকা বরাদ্দ করা আছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ক্লাইমেট চেঞ্জের ওপর বিশ্ব ব্যাংকের একটা ফান্ড আছে। সে ফান্ড থেকে গত কয়েক বছর ধরে তারা ৭শ কোটি টাকা ফান্ডও পেয়েছে। তার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে, আর অর্ধেক ফেরত দিয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল লুট করা। লুট করা ছাড়া তাদের আর কোনো কর্মকাণ্ড আমি দেখতে পাই না।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলো কেন? বারবার করে বলছি করোনা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য নগদ টাকা সরবরাহ করতে। সেদিকে সরকারের কোনো লক্ষ্য নেই। তারা এই পারপাসে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মেগা প্রজেক্টের জন্য এবারও দিয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। যেটা এ মুহূর্তে কোনো প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষকে বাঁচানোর।

তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে। পৃথিবী অতি দ্রুত তার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কারণ উন্নত দেশগুলো তাদের স্বার্থে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট করেছে। কার্বনের কারণেও ওজন মন্ডল ফুটো হয়ে গেছে। যার ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা সৃষ্টি হয়েছে। এই উষ্ণতার ফলে পৃথিবীর সব ইকোসিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানে বিশ্ব নেতাদের একটা কমিটমেন্ট প্রয়োজন। সে কমিটমেন্ট নিয়ে পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে।

খালেদা জিয়া পরিবেশের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা ইকো ব্যালেন্স রক্ষা করার জন্য জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই যে উপকূলের সবুজ বেষ্টনি, সে সময় লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়েছিল। রাস্তার ধারে গাছ লাগালে সামাজিক বনায়ন হবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান সাহেব যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন তা তিনটা দিক ছিল। একটি হচ্ছে প্রকৃতিক পানি সংরক্ষণ করা ও সেখান থেকে ইরিগেশন করা, মাছের চাষ করা এবং খালের দুই ধারে বাগান তৈরি করা।

তিনি বলেন, মানুষের অস্তিত্বের কারণে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির দ্বন্দ্ব। মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে জীবিকার প্রয়োজনে সভ্যতার প্রয়োজনে বন নষ্ট করেছে, নদী নষ্ট করেছে, পানি নষ্ট করেছে, বড় বড় কংক্রিটের বস্তি গড়ে তুলেছে, আমাদের দেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে হঠাতে হঠাতে এক বারে পিছু হঠিয়ে ফেলেছে। আগে যে পাখি গুলো আসতো, সেগুলো এখন আর আসতে পারে না। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিতে শুরু করছে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত এই প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছি। আমরা চাঁদে যাচ্ছি, মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছি।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিতি ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপি পরিবেশ বিষয়ক কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ হান্ট/এনএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিরাজগঞ্জে ৯ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ২
পরবর্তী নিবন্ধনবাবগঞ্জে ৭ জনের দেহে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত