করোনা রোগী সামাল দিতে আরও ৬ হাসপাতালকে তৈরি হতে নির্দেশ

19

দেশে দিন দিন বাড়ছে করোনার সংক্রমণ আর সেই সাথে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। ওয়ার্ডে কয়েকটি শয্যা এখনো খালি থাকলেও সরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে নেই খালি বিছানা।

এমন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো ৬টি হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে চালু করা আইসোলেশন সেন্টারটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ১ হাজার ২শ শয্যার মধ্যে ৫১টি আইসিইউ এবং ১শ ৭৯টি এইচডিইউ শয্যা থাকবে। তবে প্রাথমিক ভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ২৫০টি শয্যা।

ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন,’আমাদের ১০ দিনের একটা টার্গেট আছে। আমরা সর্ব শক্তি দিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে আমরা একটা পজিশনে এসে যাবো। আমরা রোগী নেয়া শুরু করবো।’

মিরপরের লালকুঠী হাসপাতালটিতে সংক্রমণের শুরুতে ৮০টি শয্যা এবং ৫টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছিলো। কিন্তু লোকবল ছাড়া তা চালু করা সম্ভব নয়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১শ বেডের করোনা ওয়ার্ড চালু রয়েছে। আরো ১শ বেড প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মিরপুর লালকুঠী ২০০ শয্যা বিশিষ্ট মাতৃ ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন,’নতুন হাসপাতাল এখানে জনবল নাই। কোভিড চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, নার্স, সাপোর্ট স্টাফ অর্থাৎ আয়া, পিওন, ক্লিনার এখানে পোষ্টিং নাই।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান জানান,’২শ বেড আমরা করোনার জন্য তৈরী করবো। দেড়শ বেড আমরা ইতিমধ্যে তৈরী করেছি। আমাদের জনবল দরকার।’

শেখ হাসিনা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ করোনার জন্য নির্ধারিত দুটি ওয়ার্ডে আগুনে পোড়া গুরুতর রোগী ভর্তি আছে। ওয়ার্ড দুটি খালি করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন,’রোগীগুলোকে যদি আমরা কোথাও ট্রান্সফার করতে পারি তবে আশাকরি আমরা খুব দ্রুতই এটা চালু করতে পারবো।’

ঢাকা মহানগর হাসপাতাল ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালেরও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। কবে নাগাদ এসব হাসপাতাল করোনা রোগী ভর্তির জন্য খুলে দেয়া হবে কিংবা চালু হাসপাতালগুলোতে করোনার শয্যা বাড়ানো হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিণা ফ্লোরা জানান,’কোনটাই নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব না। আমরা প্রতিটি কাজ এমনভাবে যেন যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজ শেষ করবো।’

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় যে হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে, দ্রুত শয্যা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজ হান্ট/আরকে