করোনা সংক্রমণ কমার কারণ কি লকডাউন?

14

দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের শেষের দিক থেকে চলতি বছরের শুরুর দুমাস নিম্নমুখি ছিল আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার।

মার্চে হঠাৎ বেড়ে যায় ভাইরাসের প্রকোপ। তবে গত মাসের তুলনায় এখন নিম্নমুখি দেখা যাচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। করোনা কি প্রাকৃতিকভাবে কমতে শুরু করেছে? এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে সংক্রমণ ফের বাড়তে পারে বলে একমত তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলোজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সংক্রমণের হার দেখতে পাচ্ছি কমে আসছে। তবে এটা লকডাউনের কারণে হচ্ছে না অন্য কোনো কারণে হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সংক্রমণ অনেক কমে গিয়েছিল। তখন তো লকডাউন ছিল না, আমরা দেখতে পেলাম যে এমনি এমনি কমে গেল। এখন আবার সংক্রমণ কমছে, সে কারণটা আসলে কী বলা যাচ্ছে না। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে লকডাউনের কারণে। তবে লকডাউন যে আসলে খুব বেশি কার্যকরী হচ্ছে, এমনটা না। সবমিলিয়ে, এটা বলা কঠিন যে লকডাউনের কারণে সংক্রমণ কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘যানচলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হচ্ছে, দোকানপাট-শপিংমলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, আবারও করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে এগুলো বড় ধরনের একটা নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া নিয়ে আসবে। এখন যতটা সম্ভব এখান থেকে বেঁচে থাকা যায়। সে লক্ষ্যে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা না হলে কিন্তু বড় ধরনের একটা বিপর্যয় খুব দ্রুতই আবার চলে আসবে।’

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে এটা অনেকটা আগ্রাসী ভূমিকায় ছড়িয়ে যেতে শুরু করে এবং মৃত্যু ও শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করে। মূলত যখন সংক্রমণের হার খুব বেশি থাকে, তখন এর লাগাম টেনে ধরার জন্য লকডাউন দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ঘরবন্দি রেখে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দেওয়া। এর কারণ হলো, কারও ভেতরে যদি ভাইরাসটি থাকে সেটি যেন ছড়িয়ে যেতে না পারে। ওই ব্যক্তির ভেতরেই যেন ভাইরাসটির শেষ হয়। এ প্রেক্ষাপটে লকডাউন দেওয়া হয়।’

লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এটি কার্যকর হয়েছে। এই যে সংক্রমণটা কমে এসেছে, আমার মনে হয়, লকডাউনের কারণেই কমে এসেছে।’

সংক্রমণ কমার কারণ জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এটা তো অবশ্যই লকডাউনের প্রভাবে। এছাড়াও আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে, তা হলো-কিছুদিন আগে আমরা যেভাবে গেট-টু-গেদার করা শুরু করে দিয়েছিলাম, সেগুলো তো এখন একেবারেই বন্ধ। আমাদের বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোও বন্ধ। লকডাউনের প্রেক্ষাপটে একই গাড়িতে বসে অনেক লোক যাওয়া সেটাও কমেছে। পাশাপাশি আরেকটা জিনিস হলো- ঢাকা থেকে প্রচুর লোক বাইরে চলে গেছে। ফলে ঢাকায় মোট জনসংখ্যাটাও কমে এসছে। সবচেয়ে বড় কথা মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি হাঁটাহাঁটি থেকে করোনা তেমন বেশি একটা ছড়াতে পারে না। কিন্তু একটা জায়গায় আবদ্ধ পরিবেশে মিটিং করা, বিয়ের আয়োজন, গল্প-গুজব, খাওয়া-দাওয়া, এগুলো কিন্তু খুবই ভয়ংকর বিষয়।’

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান গ্রেপ্তার ৩৯
পরবর্তী নিবন্ধহেফাজতের আরো ২ নেতার বিরুদ্ধে মামলা