কারামুক্ত ইরফান সেলিম

34

কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় জামিন পেয়ে তিনি কারগার থেকে বের হয়েছেন।

ঢাকার ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধরের মামলায় গত ২৫ এপ্রিল ইরফান সেলিমকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা ছিল না। সেই অনুযায়ী আজ বুধবার ( ২৮ এপ্রিল) সাড়ে ৫টায় জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ২৮ মার্চ ইরফান সেলিমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে ২৫ এপ্রিল শুনানি হয়।

গত ২৭ জানুয়ারি লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধরের ঘটনায় ইরফান সেলিমকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ২৬ অক্টোবর মারধরের এই ঘটনায় ইরফান সেলিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ‘মারধর ও হত্যা চেষ্টা’ মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রসিংয়ে নৌবাহিনীর ওয়াসিমের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়েছিল ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো হাজি সেলিমের গাড়ি। এরপর ওয়াসিম মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। এ সময় হাজি সেলিমের গাড়ি থেকে দু’জন ব্যক্তি নেমে এসে তাকে মারধর করেন। ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সময় হাজি সেলিম গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান ও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন ইরফান।

২৫ অক্টোবর রাতে হাজী সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

ওইদিন রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও পরদিন ভোরে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদ, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ওয়াসিফ আহমদ খান বাদি হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মো. জাহিদকে এক বছরের কারাদন্ড দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে গত বছরের ২৭ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আ. ন. ম ফয়জুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান সৌদি প্রিন্স
পরবর্তী নিবন্ধআত্রাইয়ে ধান কাটা উপলক্ষে কৃষক সমাবেশ