কিস্তির ফাঁদে ডুবছেন বিদেশ ফেরতরা

42

বিশেষ প্রতিবেদক: চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে মেহনাজ শেখ বছর দুয়েক আগে কাতার গিয়েছিলেন। স্বপ্ন যখন একটু একটু করে বড় হচ্ছে, তখন গত ফেব্রুয়ারিতে আনন্দ নিয়ে ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন, ১৭ বছরের ছেলেকে দেখবেন বলে। মেহনাজের বাকি গল্পটা দুঃস্বপ্নের!

কভিড-১৯ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় মার্চের শেষ দিকে। তাতে দেশে আটকা পড়েন ৩৫ বছর বয়সী মেহনাজ।

নিউজ হান্টকে তিনি বলছিলেন, `আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম…চাকরির জন্য। কেউ চাকরি দিচ্ছিল না।‘

মেহনাজ পরে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে শেফ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে বসেই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার, `আমার স্বামীর ডায়াবেটিসের সমস্যা। কাজ করতে পারে না। কাতারে কয়েক বছর থেকে আসার পরও লকডাউনে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে আমার। ছেলের সামনে পরীক্ষা। জানি না সাত হাজার টাকা স্কুলে দিতে পারব কি না।‘

মেহনাজ এখন মাসিক সাত হাজার টাকায় কাজ করছেন। কাতারে পেতেন ২৫ হাজারের মতো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মহামারীর সময় বিদেশ থেকে ৪ লাখ বাংলাদেশি ফিরে এসেছেন। অনেকে পারিশ্রমিক না নিয়েই আসতে বাধ্য হয়েছেন। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ টাকা ধার করে বিদেশে যান। এসেও ধারদেনায় ডুবে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার জরিপ থেকে জানা গেছে, করোনার সময়ে দেশে ফেরা ৬৪ শতাংশ প্রবাসী এখন বেকার। ৬৯ শতাংশ ঋণ নিয়ে বিপদে আছেন।