‘কৃষকদের হয়রানি নয়, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে’

13

কৃষকদের কোনো রকম হয়রানি না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। কৃষকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে উল্লেক করে মন্ত্রী বলেছেন চলতি, বোরো মওসুমে যেকোন মুল্যে সরকারীভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জনে সফল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান দপ্তর থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের সতর্কতার সাথে সচেষ্ট থাকতে হবে।

ভার্চূয়ালী যুক্ত হয়ে সারা দেশের সাথে নওগাঁ জেলারও বোরো মওসুমের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. নাজমানারা খানুমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা যুক্ত হয়।

খাদ্যমন্ত্রী তার বর্ক্তৃতায় খাদ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এমন কি খাদ্যগুদামে কর্তব্যরত লেবারদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চার করে বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃষকরা যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। কৃষকদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকেই ধান সংগ্রহ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এ ক্ষেত্রে কোন সিন্ডিকেট সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংগৃহিত ধানের গুণগত মান একশভাগ নিশ্চিত করতে হবে। ধানের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করা হবে না।

মন্ত্রী মিল মালিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সময়মত চুক্তি সম্পাদন করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বিপরীতে দেয়া চাহিদাপত্র অনুযায়ী ধান গুদামে সরবরাহ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের নায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ নানা সুযোগ সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। কারণ এ সরকার বিশ্বাস করে যে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কাজেই প্রধানরমন্ত্রীর ইচ্ছায় ও নির্দেশে কৃষকদের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কৃষি প্রণোদনা এবং কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচীসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় সারা দেশে লাখ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষি প্রনোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।

নওগাঁ জেলায় চলতি বোরো মওসুমে মোটর ২৫ হাজার ৬শ ৯৭ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বোরো ধান সংগ্রহ ২০২১ কার্যক্রম শুরু হলো। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪৬২ মেট্রিক টন, আত্রাই উপজেলায় ২৫১৮ মেট্রিক টন, রানীনগর উপজেলায় ২৫৭৩ মেট্রিক টন, মহাদেবপুর উপজেলায় ৩৮৮৩ মেট্রিক টন, পতœীতলা উপজেলায় ২৬৮৯ মেট্রিক টন, ধামইরহাট উপজেলায় ২৫৪৬ মেট্রিক টন, বদলগাছি উপজেলায় ১৬০৮ মেট্রিক টন, সাপাহার উপজেলায় ৭১৬ মেট্রিক টন, পোরশা উপজেলায় ১১০২ মেট্রিক টন, মান্দা উপজেলায় ২৭২৮ মেট্রিক টন এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২৮৭২ মেট্রিক টন।

জেলার নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় কৃষকদের অ্যাপের মাধ্যমে এবং অন্যান্য উপজেলা সমুহে সাধারণ পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহ করাে হবে বলে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে।

চলতি বোরো মওসুমে জেলায় ১১ লক্ষ ৮২ হাজার ৮শ ৯৫ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

এ উপলক্ষ্যে নওগাঁ স্থানীয় খাদ্য গুদামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন-অর-রশিদ। এ সময় পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, রাজশাহীর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি এম ফারুখ পাটোয়ারী, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ, জেলা চাউল কল মালিক গ্রæপরে সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদ ফরহাদ হোসেন চকদার, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার মুনি ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি শফিক ছোটন বক্তব্য রাখেন।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধআত্রাইয়ে ধান কাটা উপলক্ষে কৃষক সমাবেশ
পরবর্তী নিবন্ধজামিনে বের হয়েই বাদীর বাড়িতে আসামীর হামলা