কেন প্রেম হারিয়ে যায়?

184

ডিনারের টেবিলে প্রথম দেখা। শুরুতে হ্যালো, একটু পর হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সেই তো পরিচয়। কিছুদিন বাদে কাজের সুবাদে আবারও চোখে চোখ পড়া। একটু একটু করে ভালোলাগা, ভালোবাসা। একদিন হাতে হাত রেখে স্বপ্নের গল্প বলা। কি দারুণ শুরু তাই না?

প্রেমের প্রথম ট্রেনটা এমনি। ঠিক যেমন ৩৪ বছর আগে হয়েছিল বিল গেটস-মেলিন্ডার ভালোবাসার শুরুটা। ২৭ বছর এক ছাদের নিচে থাকা এই দম্পত্তির মধুর বন্ধনেও শেষ পর্যন্ত চিড় ধরলো। কিন্তু কেন প্রেমের হারিয়ে যাওয়া?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রেমের হারিয়ে যাওয়ার পেছনে বহু কারণ। এখানটায় প্রেমের বিয়ে নিয়ে চলে বেশ রসিকতা, কানাঘুষাও কম নয়। আসলে প্রেমে পড়াটা সম্পূর্ণ একটা বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। বিয়ে প্রেম করেই হোক আর পারিবারিক সম্বন্ধের মাধ্যমেই হোক-পান থেকে চুন খসলেই হলো, তা মেনে নিতে পরিবারে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। বিয়ে মানেই জীবনের নতুন রোমাঞ্চ শিহরণ ভরা রোমান্টিক ইনিংসের শুরু। তাতে নানা রকম বৈচিত্র্য থাকবেই।

প্রেমের বিয়ে হলে তো কথাই নেই। দুজনের বনিবনা না থাকলে তাঁদের চেহারার মধ্যে বিষণ্নতা-কষ্ট-অভিমান ফুটে ওঠে বেশি। তার সঙ্গে একরাশ হতাশা। প্রেম করলাম, ভালোবাসলাম, সবার মতের বিরুদ্ধে দাঁড়ালাম; তারপরও এত কষ্ট কেমন করে সওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেমের বিয়েতে মোহ কাজ করে। ভালোমন্দ, লাভক্ষতি-কোনো কিছুই চোখের সামনে দেখা দেয় না। অন্ধত্ব পেয়ে বসে। ছেলেমেয়ে দুজনেই তাদের দায়দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ভালো লাগা নিয়েই সবকিছুতে বিভোর থাকে। পরিবার-পরিজন তখন গৌণ হয়ে যায়। বাবা-মা তখন না পেরে মুখ বন্ধ করে থাকেন। তাঁরা হাজারো ভালো পরামর্শ দিলেও সেসব ভালো লাগে না প্রেম-জুটির। শত্রুতা বাড়িয়ে লাভ কি? নিঃশব্দে সব তরফেই দূরত্ব বাড়তে থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা আলগিন নিউজ হান্টকে বলেন, বিয়ে একটি বাস্তবতা। একজীবনের মতো লম্বা একটা ইনিংস। আমৃত্যু থাকতে হবে নট আউট। সেটা প্রেমেরই হোক, কিংবা দুটো পরিবারের পাকাপাকি দেখায়ই হোক। সমস্যা বলে-কয়ে আসে না। আসে দৈব দুর্বিপাকের মতো। সমস্যাকে মোকাবিলার জন্য মানসিক শক্তি, ইচ্ছেই হচ্ছে বড় কথা।

তিনি আরও বলেন, সংসার সুখের হয় নানা রকম বোঝাপড়া, সমঝোতার গুণে। বিয়ের গাঁটছড়ার বন্ধন যখন হলো, এখন এটাকে সুখ-প্রশান্তির গৃহ হিসেবে টেকাতে হবে। খুনসুটি হবেই। দুপরিবার, আত্মীয়স্বজেনর টক্কর কমবেশি সবক্ষেত্রেই হয়। মনোবলকে রাখতে হবে দৃঢ়। ভালোবেসে বিয়ের বড় চ্যালেঞ্জই হলো, সেই সংসারকে সুখের সংসারে রূপান্তর। পারিবারিক বিয়ের চ্যালেঞ্জও একই।

কেন হয় জটিলতা? এমন প্রশ্নের জবাবে সুলতানা আলগিন বলেন, পারিবারিক সম্বন্ধের বিয়েতে মুরব্বিদের খোঁজখবর নেওয়ার যে একটা সুফল পাওয়া যায়। প্রেমের বিয়েতে সে সুযোগ থাকে না। অ্যারেঞ্জড বিয়েতে পাড়া-প্রতিবেশী, অফিস সহকর্মী-কোনো কিছু বাদ যায় না। কিছু সমস্যা তাঁরা পারিবারিকভাবে আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলেন বা ফেলার চেষ্টা করেন। অথচ প্রেমের বিয়েতে কিছু অপূর্ণতা থাকে। ছেলেমেয়ে দুজনেরই পারিবারিক সমস্যাগুলোকে জানা হয় না। নিজেদের বোঝাপড়াই যেন শেষ কথা। সামাজিকতার ধার ধারে না। তাই যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা পিছপা হন না। দায়িত্ববোধ তাঁদের মধ্যে ততটা গড়ে ওঠে না। পরিবারও এই সুযোগটা কাজে লাগায়। তাঁরাও সমস্যার সমাধানে না গিয়ে কীভাবে তিলকে তাল করতে হয়, সে রকম জটিলতায় হয় উৎসাহী।

সম্পর্ক এমনিতেই সংবেদনশীল বিষয়। সামান্য বিষয়েই ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় একঘেয়েমিও ভর করে। তাই তো পৃথিবীর অনেক কিছুর মতো সম্পর্কেরও পরিচর্যা প্রয়োজন। প্রয়োজন নবায়নের-যেমনটা মনে করছেন মনোবিদরা।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধএখনো জ্বলছে সুন্দরবন
পরবর্তী নিবন্ধভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়েছে