খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া হবে তো?

19

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্বাসকষ্টের কারণে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

পরিবারের পক্ষে গতকাল সোমবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অবহিত করে এ অনুরোধ জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আদালতে আবেদনের পরামর্শ দেন।

তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি নির্বাহী আদেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাকে নির্বাহী আদেশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে টেলিফোন করেছিলেন। খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নেওয়া হয়। পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে তার মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন। সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তাকে সিসিইউতে ভর্তি করান। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহিদ বলেন, মানুষের যে কোনো সময়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং সেগুলো চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে করছেন। তার অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল। পরে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে খালেদা জিয়ার আবারও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান ডা. জাহিদ।

গত ২৭ এপ্রিল রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যায় ভুগছেন।

১০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এর পর মেডিকেল টিম গঠন করে গুলশানের বাসায় তার চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন পার হওয়ার পর আবার পরীক্ষা করা হলে ফল পজিটিভ আসে। তবে গত ৩০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার বাসভবনের সবাই করোনামুক্ত হয়েছেন।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বছরের বেশি সময় বন্দিজীবন কাটানোর পর চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের প্রিজন সেলে।

গত বছর সারাবিশ্বে মহামারি করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

মূলত খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদন আমলে নিয়ে শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়া হয়। প্রথমে ছয় মাসের জামিন দিলেও পরে তা আরও ছয় মাস করে দুই দফা বাড়ানো হয়।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধতিন দলে করোনার হানা, তবু থামবে না আইপিএল
পরবর্তী নিবন্ধফের ৫ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক