চট্টগ্রামের ‘দুঃখ’ জলাবদ্ধতা

3

চট্টগ্রাম নগরীর দুঃখ জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিপাত মানেই নগরজুড়ে হাঁটুজল। রাস্তাঘাট বন্ধ, অন্তহীন দুর্ভোগ। নগরীর অধিকাংশ এলাকার বাসাবাড়ির নিচতলা প্রতিবছরই নিয়ম করে পানিতে প্লাবিত হবেই।

গত ২৫ বছর ধরেই চট্টগ্রাম নগরবাসীর এই দুঃখ আর যাচ্ছে না। নগরীর এই জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহন করে সরকার। চলতি বছরেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর পরও নগরবাসী এখন পর্যন্ত প্রকল্পের দৃশ্যমান কোন সুফল পাচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৬ জুন দিনভরের বৃষ্টিতে পুরো চট্টগ্রাম নগরীজুড়ে থই থই হাঁটজল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা গত ২৫ বছর ধরেই। সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সর্বশেষ মেয়াদে প্রবল বর্ষনে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় নগরজুড়ে।

এরপর এখন পর্যন্ত আরো তিনজন মেয়র এবং একজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ছোট-বড় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, কিন্তু সমস্যার কোন সমাধান মিলেনি।

সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুফল না পাওয়ায় সর্বশেষ ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে মাধ্যমে ৫ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয় বর্তমান সরকার। চলতি বছর এই প্রকল্পের সুফল পাওয়ার কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোন সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দিন জানান, কর্ণফুলীর নদীর সাথে সংযোগযুক্ত ১৬ টি খাল এবং এসব খালে সংযুক্ত আরো ২০টি খালসহ মোট ৩৬টি খালের পরিকল্পিত পুন:খনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় খালের প্রশস্থতা রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাল সমূহের পাড় ঘেষে ৮৫.৬৮ কি.মি. সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যা খাল পরিস্কারের কাজে ভূমিকা রাখা ছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের আওতায় খালের ফ্রি-ওয়াটার বোর্ড নিশ্চিত করার জন্য ৪৮ টি পিসি গার্ডার ব্রিজ ও ৬ টি কালভার্ট নির্মাণ কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০২০ সালের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদ থাকার সত্যতা স্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক জানান, নানা জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় ২০২১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধকরোনা বেড়েই চলছে খুলনায়
পরবর্তী নিবন্ধথেমে থেমে দিনভর বৃষ্টির আভাস