চিকিৎসকরা বলেছিলেন হাঁটতে পারবেন না, এখন ভারতের অন্যতম নৃত্যশিল্পী

18

পড়াশোনায় বরাবরই ভাল। বড় হয়ে আইএএস হতে চেযেছিলেন। স্নাতক স্তরে বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রথমও হয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর পড়াশোনা নিয়ে আর এগোননি ভারতের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী শক্তি মোহন। বরং পেশা হিসাবে বেছে নিলেন তার নেশাকেই।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী শক্তি। হিন্দি ছবির কিছু সুপারহিট গানের নৃত্য পরিচালক তিনি। করেছেন একাধিক গানের অ্যালবাম। নাচের রিয়েলিটি শো-এ বিচারকের আসনেও বসেছেন তিনি।

নৃত্যশিল্পী হওয়ার পিছনে পরিস্থিতিও তার সঙ্গ দেয়নি ছোটবেলা থেকে। নাচ ছিল তার ভালবাসা, তার নেশা। কিন্তু ছোটবেলায় ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার জীবনে। নাচ তো দূর অস্ত্, সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পর্যন্ত পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। সেখান থেকেই একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়ানো তার। আত্মবিশ্বাসে ভর করে চিকিৎসকদের ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। তার নাচের কঠিন স্টেপ দেখে বোঝার উপায়ই নেই যে এক সময় তার হাঁটাচলা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

শক্তির জন্ম ১৯৮৫ সালে দিল্লিতে। তবে জন্ম দিল্লিতে হলেও ছোটবেলা কেটেছে মুম্বইয়েই। মুম্বইয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। স্নাতক স্তরের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।

শক্তি বরাবরই পড়াশোনায় ভাল ছিলেন। ইচ্ছা ছিল আইএএস অফিসার হতে। কিন্তু স্নাতক হওয়ার পরই ২০০৯ সালে তাঁর নাচের শিক্ষক তাঁকে একটি রিয়েলিটি শো-এ অংশগ্রহণ করান। তাতে জয়ী হন শক্তি। তারপরই টেরেন্স লেউইস ডান্স ফাউন্ডেশন স্কলারশিপ ট্রাস্ট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে নাচে ডিপ্লোমা করেন তিনি। এরপর থেকেই পড়াশোনা ছেড়ে নেশাকেই পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার সিঁড়ি চড়তে শুরু করেন শক্তি।

শক্তির কাছে এই সিঁড়ি ছিল মসৃণ। একের পর এক দারুণ পারফরম্যান্স তাকে খুব দ্রুত কেরিয়ারের শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ‘তীস মার খান’, ‘রাউডি রাঠৌর’, ‘শুকুন’-সহ একাধিক ছবিতে নাচের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ‘ধুম ৩’, ‘পদ্মাবত’, ‘নবাবজাদে’-র মতো ছবিতে নৃত্য পরিচালনাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন নাচের অনুষ্ঠানে বিচারকের আসনেও বসেছেন তিনি।

তিনি যে কখনও নৃত্যশিল্পী হয়ে উঠতে পারবেন তা স্বপ্নেও ভাবেননি। মাত্র ৪ বছর বয়সে বোনকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন শক্তি। রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুত গতিতে ছুটে আসা একটি মোটরবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর পায়ের উপর উঠে যায়।

ভয়ঙ্কর চোট পেয়েছিলেন শক্তি। ৭ মাস বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন কোনও ভাবেই আর সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা সম্ভব নয় তার পক্ষে। কিন্তু মায়ের বিশ্বাস ছিল শক্তির উপর।

অনেক চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। শুধু হাঁটাচলাই নয়, নির্দ্বিধায় এবং মুক্তভাবে নাচতেও শুরু করলেন কয়েক মাসের মধ্যে। সেই মেয়েই আজ নাচে মন ভরিয়ে দেন অনুগামীদের।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধমানসিক চাপ দূর হবে ১০ মিনিটেই
পরবর্তী নিবন্ধস্বামী কেনো আসামি