চীনের পর্যটন কেন্দ্রে পা ফেলার জায়গা নেই!

11

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় পুরো দুনিয়াই যেখানে স্তব্ধ, সেখানে চীনে দেখা মিললো এক অন্য ছবি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন চলাফেরার উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তখন চীনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো মানুষে গিজগিজ করছে। সেখানে যেন পা ফেলারও জায়গা নেই।

চীনের নিকটতম প্রতিবেশি ভারত বর্তমানে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি পর্যদুস্ত। সেখানে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখের বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মারা যাচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ। সবশেষ আজ শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৪ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু ভারতে যখন এই অবস্থা, তখন চীনের পর্যটন কেন্দ্রের ভিড় দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই।

চীনা সরকারের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ইংরেজি দৈনিক গ্লোবাল টাইস তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীনের অনেক মানুষ বহু লড়াই করে তাদের পছন্দের পর্যটন স্পটগুলোতে উপস্থিত হয়েছেন এবং মে দিবসের ছুটির প্রথম দিন শনিবারের জন্য অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কে আটকে ছিলেন। এই দৃশ্যটি ইঙ্গিত দেয় যে, চীনা জনগণ পুরোপুরি দেশটির মহামারি-নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে বিশ্বাস করে।

এতে আরও বলা হয়, অনুমান করা হয় যে ছুটির দিনে ২৬৫ মিলিয়ন যাত্রী ভ্রমণ করবে।

এদিন বাদলিং গ্রেট ওয়াল একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, আজ শনিবার (১ মে) থেকে সোমবার পর্যন্ত অনলাইন রিজার্ভেশন ৪৮, ৭৫০ জনের বেশি রয়েছে। মহামারী নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার অধীনে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ক্লিপগুলোতে দেখা যা, মানুষ গ্রেট ওয়ালে একে-অপরকে চেপে ধরে উঠছে। সেখানে পা ফেলারও কোনো জায়গা নেই।

একই রকম দৃশ্য দেখা গেছে পূর্ব চিনের শানডং প্রদেশের তাই’আনের জনপ্রিয় মাউন্ট তাইতে। সেখানে পর্যটকরা বিখ্যাত এই পর্বতটিকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলেছিলেন।

মজা করে পোস্ট করেছেন এক নেট ব্যবহারকারী। তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি আরোহণ করতে নাও চান, তবু আপনার পিছনের লোকেরা আপনাকে এটি করতে দেবে না।’

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি পর্যটনকেন্দ্র হলুদ ক্রেন টাওয়ার এক নোটিশ জারি করে বলেছে, তারা ৪০,০০০ দর্শনার্থী পেয়েছে, যা তাদের ধারণ ক্ষমতার ৮০ শতাংশ। মহামারী নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয়তার কারণে তারা এন্ট্রি স্থগিত করতে পারে।

উওহানের এক বাসিন্দা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, ‘সেখানে অনেক লোক টাওয়ারের ছবি তোলেন এবং (ইয়াংজ্জি নদীর ওপারে) সেতুর উপর দিয়ে হাঁটছেন, এটা ২০১৯-এর দিকের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার মতো মনে হচ্ছে।’

সেন্ট্রাল চীনের লুয়োইংয়ের লংগেন গ্রোটোজে নিরাপত্তা কর্মীরা পর্যটকদের ভিড়ের সাথে ধাপে ধাপে চলার নির্দেশনা দিতে লাউডস্পিকার ব্যবহার শুরু করেছিলেন, ছবি তোলার জন্য কোনো স্থানে কেউ খুব বেশি সময় নিচ্ছেন না কারণ, এতে দুর্ঘটনা বা অন্যান্য দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে ।

পূর্ব চীনের ঝিজিয়াংয়ের ওয়েস্ট লেকের ডুয়ানকিয়াওও শৌচাগারের বাইরে মানুষের কয়েকশো মিটার লম্বা অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়। মনোরম ওয়েস্ট লেকে নৌকা ভাড়া নিতে লোকজনকে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শুধু পর্যটন সাইট নয়, হাইওয়ে সার্ভিস সেন্টার, রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরগুলোতেও অস্বাভাবিক সংখ্যক ভ্রমণকারী দেখা গেছে। লুওয়াংয়ের বাসিন্দা মা গ্লোবাল টাইমসকে বলেছেন, সাধারণত ৪০ মিনিট সময় লাগে এমন ভ্রমণের জন্য চার ঘন্টা ব্যয় করেছিলেন তিনি। বলেন, ‘একমাত্র স্বস্তি হল ছুটির দিনে হাইওয়ে টোলগুলো ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধদ্বিতীয় টেস্টেও করোনা পজিটিভ আলমগীর
পরবর্তী নিবন্ধখেলনার ভেতরে মিললো ৩ কেজি সোনা