জবাবদিহিতা নেই বলেই বস্তিতে বার বার আগুন লাগে: ফখরুল

2

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জবাবদিহিতা নেই বলেই বস্তিগুলোতে বার বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট করলেও বস্তিবাসীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। স্বৈরাচার সরকার হটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলেই গরিব দুস্থদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে।

আজ মঙ্গলবার (৮ জুন) দিকে মহাখালী সাততলা বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে ভাসমান মানুষ কেউ গৃহপরিচারিকার কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ বুট পালিশ করে। একেবারেই বাস্তুহারা ছিন্নমূল মানুষগুলো এই ধরনের বস্তিতে বসবাস করে। স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু মানুষের মৌলিক যে অধিকার, প্রতিটি মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার; সেটা করতে পারিনি। আজকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট করছে। ১০ হাজার টাকার প্রজেক্ট ৫০ হাজার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য কেউ কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আওয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ। আমি আশা করি আগামী ২/১ দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সামান্য হলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা আসবে। আমি আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি করছি।

ফখরুল বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি চালু না হয়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা যারা সমাজের জন্য কাজ করছি, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি তাদের কাজ হলো অবিলম্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য, সোমবার (৭ জুন) ভোর ৫টার দিকে মহাখালী সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পরই ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুনে নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভয়াবহ এই আগুন নেভাতে পার্শ্ববর্তী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিটিউট, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে পানি এনেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে, বাতাসে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়।

আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া এক নারী বলেন, শুধু কোলের বাচ্চাটাকে নিয়ে বের হয়ে গেলাম, আমার সব পুড়ে গেল। আমার সব শেষ হয়ে গেল। আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, এখন আর ভিডিও করে কী হবে, আপনারা কিচ্ছু করতে পারবেন না, আমার বাড়ির সব পুড়ে গেছে, আমি নিজে আজকে লাশ হয়ে যেতাম।

সাততলা বস্তিতে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার ঘর ছিল। বেশির ভাগ স্থাপনাই এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

নিউজ হান্ট/এনএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে ভ্যাকসিনের কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না: কাদের
পরবর্তী নিবন্ধকরোনার মধ্যেও ৮৫ সাংবাদিক ডিজিটাল মামলার আসামি: টিআইবি