টিকা কেন্দ্র পরিবর্তন করা যাবে

24

এতদিন টিকা কেন্দ্র পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানানো হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে। আজ বৃহস্পতিবার ( ২৯ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

অধিদফতর জানিয়েছে, যারা ঢাকার বাইরে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন তারা রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ভ্যাকসিনেশন সেন্টার থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবেন। এ পাঁচটি হাসপাতাল হলো- কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি ( কিডনি হাসপাতাল), জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সদর উপজেলা ছাড়া) ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করা যাবে।

গত ৭ এপ্রিল থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয় দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেবার জন্য। কিন্তু সরকার ঘোষিত কঠোর বিধি নিষেধের কারণে টিকার প্রথম ডোজ নেবার পর অনেকেই পড়েছেন নানা বিপত্তিতে। কেউ ঢাকার বাইরে আবার কেউ ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসার কারণে তাদের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তে এখন টিকা গ্রহণকারীদের জটিলতা অনেকাংশেই কমবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যারা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন এক কেন্দ্র থেকে তারা অন্য কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন নিতে পারবে না। কিন্তু যারা দেশে চলমান বিধিনিষেধের আগে স্থান পরিবর্তন করেছেন বা প্রথম ডোজ নেওয়ার পরে স্থান পরিবর্তন করেছেন তাদের জন্য ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আর এজন্য ঢাকার বাইরে থেকে এসে কেউ যদি ঢাকায় আটকে যান এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে চান তবে তারা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উল্লেখিত পাঁচটি হাসপাতালে টিকা নিতে পারবেন।

একইভাবে অন্যান্য জেলাতেও যারা বাইরে থেকে গেছে তারা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন সেখানের জেলা সদর হাসপাতালে কিংবা বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও।

একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভ্যাকসিন নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে তাদেরই এই সুবিধা দেওয়া হবে যারা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়ার পরে স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

তবে ঢাকায় থেকে ঢাকার ভেতরে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুযোগ নেই জানিয়ে ডা. শামসুল হক বলেন, তবে একই জেলা বা সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে কেন্দ্র পরিবর্তন করা যাবে না।

এদিকে, আজ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫৩৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে নিয়েছেন ২৪ হাজার ৪২৪ জন। এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় মিলে টিকা দেয়া হয়েছে ৮৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ ডোজ। বিতরণ করা টিকা বাদ দিলে হাতে মজুত আছে মাত্র ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০ ডোজ।

অন্যদিকে সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরুর ৬৭তম দিনে আজ প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১০ জন। যদিও ২৬শে এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ টিকা গণহারে দেয়া বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় নিয়েছেন ১ জন। ঢাকার বাইরে ৯ জন।

এ পর্যন্ত দেশে মোট প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৬ জন। আর আজ বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে অনলাইনে মোট নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৬ জন।

গত ২৭শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে গণটিকাদান শুরু হয় ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে। আর দ্বিতীয় ডোজ শুরু হয় ৮ই এপ্রিল থেকে। দেশে কেনা এবং উপহার পাওয়া মিলে এ পর্যন্ত টিকা এসেছে এক কোটি দুই লাখ ডোজ।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাটোরে দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধহজের বিষয়ে আর্থিক লেনদেন না করার অনুরোধ