‘দুর্নীতির কারণেই টিকা সংগ্রহে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি’

8

দুর্নীতির কারণেই করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, টিকা সংগ্রহের বিষয়ে আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, সরকার কতটা দায়িত্বহীন হলে, কতটা অযোগ্য হলে, জনগণের সাথে তাদের সম্পর্ক কতটা বিচ্ছিন্ন হলে এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ওই কারণটা হচ্ছে- শুধুমাত্র দুর্নীতি, এর মধ্যে অন্য কোনো কারণ নেই।

আজ রোববার (২ মে১) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। গত ১ মে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভ্যাকসিনের অভাবে টিকা প্রদানের কার্যক্রম হঠাৎ করেই বন্ধ করায় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সভা মনে করে যে আমাদের দেশের সকল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিএনপি এই বিষয়ে প্রথম থেকেই সরকারকে সতর্ক করেছে। কিন্ত তারা কোনো কর্ণপাত তো করেননি, উপরন্তু তারা বিভিন্ন রকমের বিদ্রুপাত্মক কথা বলেছেন এবং তারা তাদের কাজ সম্পর্কে যথেষ্ট আত্মভরিতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে তারা অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে টিকা প্রদান কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং এ বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, আমরা দেখলাম যে টিকা প্রদান একদিন বন্ধ হয়ে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গোটা দেশের মানুষ আজকে অত্যন্ত অনিশ্চিয়তায় ভুগছে, আস্থাহীনতায় ভুগছে এবং আশঙ্কায় ভুগছে। আমরা বারবার করে বলেছিলাম যে টিকা বা ভ্যাকসিনের বিকল্প উৎস রাখা উচিত এবং এই বিকল্প উৎস না রাখলে কোনো উৎস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় তখন কিন্তু দেশের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সরকার কোনো কর্ণপাত না করে শুধুমাত্র তাদের দুর্নীতির জন্য তারা তাদের নিজস্ব দুর্নীতিপরায়ণ কোম্পানির মাধ্যমে শুধুমাত্র ভারত থেকেই একটিমাত্র কোম্পানির ভ্যাকসিন সংগ্রহ করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছিল। এ কারণে আজকে গোটা জাতি বিপদগ্রস্ত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জানি, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বলছে যে আগে তারা ভারতের চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে টিকা সরবারহ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন যে ভারতের চাহিদা এখন বেশি এবং সেই কারণে সমস্ত রফতানি বাতিল করে দিয়ে আগের ভারতের চাহিদা পূরণ করতে শুরু করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সেখানে আপত্তি নেই- ভারত তো তার চাহিদা পূরণ করবেই। কিন্তু আমাদের সরকার যে সম্পূর্ণ দায়িত্বহীনতার সঙ্গে একেবারে বলা যেতে পারে যে একটা অপরাধমূলক কাজ করেছে। তা হচ্ছে যে তারা বিকল্প উৎসেনরর কোনো অনুসন্ধান করেনি এবং বিকল্প উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের আবশ্যকতা তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেনি। আমাদের যে আশঙ্শ ছিল, ওই আশঙ্কা আজকে সত্যের পরিণত হয়েছে। চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের সুযোগ থাকার পরও তা গ্রহণ করা হয়নি। আপনারা জানেন যে চীনের একজন মন্ত্রী এসেছিলেন দেশে এবং এখানে চীনের যে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সরকার সেটাকে সম্পূর্ণভাবে অবজ্ঞা করেছে। সরকারের এই দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির জন্য তাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা মমতার বড় শক্তি: কঙ্গনা
পরবর্তী নিবন্ধনিউজ হান্টে ভাইরাল ‘বড় ছেলে’ মাহাবুব