নওগাঁয় মাদকের ছোবলে যুবসমাজ

14
Exif_JPEG_420

নওগাঁ থেকে একেএম কামাল উদ্দিন টগর: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারিতে যখন সবাই আতঙ্কিত তখনও থেমে নেই নওগাঁ জেলায় মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীদের রাজত্ব। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে হিলি বর্ডারসহ দু’দেশের কঠোর নিরাপত্তার কারণে মাদক চোরা-কারবারি মহল একেবারে নড়বড়ে তবুও থেমে নেই মাদক পাচার।

পুলিশের কঠোর তদারকি বিজিবি ও র‍্যাবের টানা অভিযানে বাংলাদেশে একেবারে নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল নেশাদ্রব্য কিছুটা কমলেও এসেছে নতুন এক নাম এমকেডিল, মোকাডিল। এগুলোর দামও ফেনসিডিলের চেয়ে কম।

মহাদেবপুরের মাতাজি,পত্নীতলার ডাঙ্গাপাড়া ও ধামইরহাটের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী খুবই চতুরতার সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদক চোরাচালান করছেন।

এদিকে হিরোইন-ইয়াবার বদলে ওষধের বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে নেশা হয় এমন ওষুধ বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করছে। মাদক সেবনের অর্থ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে যুবসমাজ। দ্রুত এর প্রতিকার না করা গেলে যুবসমাজ ধ্বংস হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের কড়া অভিযান অব্যাহত থাকার পরেও কেন কমছে না মাদকের এই ভয়াবহতা এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের।

গোপন সুত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চকরাজা উত্তর পাড়া গ্রামের সিরাজের সাত ছেলের মধ্যে তিন ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকা স্বর-স্বতীপুর দয়ালের পরিত্যক্ত রাইস মিল ও গ্রামের বাঁশঝাড় এলাকাগুলোর মধ্যে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে চোলায় মদ।

অন্যদিকে সীমান্তের কোল ঘেঁষা এলাকা সাপাহার পাতাড়ী, খঞ্জনপুর, ধামইরহাট রুপনারায়ণপুর, কালুপাড়া, খয়েরবাড়ী, দাদনপুর, আলতাদিঘী, চন্ডিপুর, দূর্গাপুর, হঠাৎপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রামের স্পট গুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই চলে মাদক সেবীদের আনাগোনা।

সদ্য জেল ফেরত মাদক মামলার আসামী মুক্তার হোসেন বলেন, আমি গত,১৮ মার্চ ২০২১ সালে মাদক মামলায় নওগাঁ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাই এবং জেল সুপারের পক্ষ থেকে মাদক মুক্ত থাকার জন্য একটি ভ্যান গাড়ি উপহার পেয়ে থাকি। কিন্তু জেল থেকে মুক্তি পাবার পর উপহার পেয়ে নিজ বাসায় এসে আবারো মাদকের কবলে পড়ি। জেল সুপারের উপহার দেয়া ভ্যান আমি আমার পাড়ার শ্যালার কাছে ৩ হাজার টাকায় বন্ধক রাখি পড়ে টাকা শেষ হলে আমার বাচ্চার মাটির ব্যাংকে জমানো কিছু পাঁচ টাকার কয়েন নিয়ে আসি নেশা কেনার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবন কারীর পিতা বলেন, হাতের নাগালে ওসব ট্যাবলেট পাওয়ার জন্য সঙ্গ দোষে তার ছেলে নষ্টের দিকে গেছেন। বিভিন্ন পন্থায় ছেলেকে ওসব দিক থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন। প্রশাসনের সহায়তা চান তারা।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম (জুয়েল) জানান, আমি সদ্য সদর থানায় যোগদান করেছি মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনামুলক বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া,বিপিএম জানান, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ নওগাঁ সদরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলায় খুবই তৎপর রয়েছে। মাদকের বিষয়ে কাউকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনামুলক মাইকিংসহ বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ