নাটোরে সরকারি জায়গা দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ

22

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আত্মীয় হওয়ার কারণে নাটোরের লালপুরে সরকারি জায়গা দখল করে দুটি পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। পানি নিস্কাশনে ব্রীজের দুটি মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির আশঙ্কা স্থানীয়দের। এই ঘটনায় শতাধিক কৃষক ওই ইউএনও’র বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে এলাকাবাসীর করা অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা জানান, তাদের পুকুরের কারণে পানি প্রবাহের কোন বিঘ্ন ঘটবে না। তবে পুকুরের মধ্যে সরকারী জায়গা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আড়বাব ইউনিয়নের বিলশলীয়া-সালামপুর সড়কের দুটি ব্রীজ সংলগ্ন বিলশলিয়া বিলে সড়কের উভয় পাশে দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, ব্রীজের পাশে খাস জমি দখল করে পুকুর খননের ফলে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ব্রীজ দুটির প্রবেশ মুখ। এতে করে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে, ফলে ফসল ডুবে যাবে, তারা কোন ফসল পাবে না। পুকুর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কারও কোন কথাই তারা কর্ণপাত করেননি।

ইজাহার আলী সহ সেখানে উপস্থিত একাধিক কৃষক জানান, এই ব্রীজ দিয়ে এই বিল ও এই বিলের পশ্চিমের কয়েকটি বিলের পানি প্রবাহিত হয়ে চন্দনা নদীতে যায়, কিন্তু পুকুর খননের ফলে ব্রীজের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে,ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এমনকি অনেক জমি অনাবাদী হয়ে যাবে। পুকুর খনন বন্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, শরীফ আহমেদ লিংকন রাজশাহী জেলার একটি উপজেলার ইউএনও, আর পুকুরটিও তাদের, এরা প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে মানুষকে জিম্মি করে তারা এসব কাজ করে। স্বাভাবিক কারণে স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও তা কোন কাজে আসেনি তাই উর্দ্ধতন বিভাগেও অভিযোগ করা হয়েছে। অবিলম্বে এই পুকুর অপসারণ করা না গেলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় কৃষকদের কষ্টের শেষ থাকবে না।

আড়বাব ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, এই পুকুর খননের ফলে এলাকার যে ক্ষতি হবে তা পূরণ করা অসম্ভব,তাই এটা প্রতিরোধ করা না গেলে এলাকার মানুষ চরম ক্ষতিতে পড়বেন। পুকুর খননের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোন মতামত নেয়া হয়না,বরং জানতে চাইলে তাদেরকে হুমকি ধামকি দেয়া হয়।

পুকুর মালিক শরীফ আহমেদ লিংকনের ছোট ভাই আবু সাইদ দুলু সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ২০ বছর থেকে তারা ওই জমিতে কোন ফসল পান না, বেশিরভাগ সময় পানি জমে থাকে তাই সরকারী নিয়ম মেনে এবং প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা পুকুর খনন করেছেন। তার পুকুরের কারণে পানি প্রবাহের কোন সমস্যা হবে না, পানি নির্বিঘ্নে প্রবাহের জন্য তারা রিং স্থাপন করেছেন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে তারা পুকুরের পাড় কেটে হলেও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখবেন।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (দায়িত্ব প্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাম্মী আক্তার খাস জমির বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, খাস জমির বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ পেয়েছি, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি, ব্রীজের মুখে যে ভাবে পকুর খনন করা হয়েছে এতে কিছুটা হলেও পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্ত হবে। তবে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে পুকুর মালিক তাদের পুকুরের পাড় কেটে দিবেন বলে জানিয়েছেন তাকে ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই সরকারী কর্মকর্তা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ লিংকন এর সাথে তার ব্যক্তিগত মুঠো ফোনে (০১৭০৯৯৮৯৫৩০) নম্বরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধসদরপুরে তরমুজের বাজারে আগুন
পরবর্তী নিবন্ধহেফাজতের আরও এক নেতা গ্রেপ্তার