নিউজ হান্টে ভাইরাল ‘বড় ছেলে’ মাহাবুব

73

-বাড়িতে কে কে আছে?

‘আমার আম্মু আছে, আমার বাবা নাই। একটা ছোট বাবু আছে’, নিউজ হান্টের সম্পাদক মৌসুমী সুলতানার লাইভে এই কথাগুলো বলা ছোট্ট মাহাবুব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে বেলুন বিক্রির সময় তার সঙ্গে কথা হয় মৌসুমীর। লাইভে মাহাবুব শোনায় নিজের জীবনযুদ্ধের কথা।

মাহাবুবের ভিডিও ক্লিপটি এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বার শেয়ার হয়েছে। ভিউ প্রায় আড়াই লাখ। প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ১৪ হাজার জন! ভিডিওটিতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা একরত্তি মাহাবুবকে বলতে শোনা যায়, এই বয়সে তাকেই সংসার চালাতে হয়!

বিক্রি কেমন হচ্ছে, জানতে চাইলে মাহাবুব মৌসুমী সুলতানাকে বলে, ‘হালকা হচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে কয়েকটা হইছে।’

মাহাবুব জানায় সংসারে সে বড় ছেলে, ‘আমার আম্মু কিছু কাজ করে না। আমার টাকা দিয়ে ঘর চলে।আজকে ২০ টাকা বিক্রি করছি।’

২০ টাকা দিয়ে কী কিনবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সে বলে, ‘খালি শুধু ভাত। আর ডিম দুইটা আনমু।’

মাহাবুব প্রায় সারাদিনই না খেয়ে ছিল। এটি শুনে মৌসুমী সুলাতনা লাইভেই তাকে কিছু অর্থ সাহায্য দেন।

মাহাবুবের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন 

ভিডিওটি দেখার পর অনেকে নিউজ হান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাহাবুবকে সাহায্য করতে চেয়েছেন। সৌদি আরব থেকে একজন ফোন করে মাহাবুবের ঠিকানা চেয়েছেন।

ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বলছেন, বড় ছেলে নাটকের সত্যিকারের ‘বড় ছেলেকে’ নিউজ হান্ট খুঁজে বের করেছে।

নিউজ হান্টে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর গত কয়েক মাসে অনেকেই এমন ভাইরাল হয়েছেন। সমস্যার কথা বলে প্রতিকার পেয়েছেন।

এর আগে ৬ এপ্রিল এক সিএনজি চালক নিউজ হান্টকে তার ভোগান্তির কথা বলে আলোচনায় আসেন। কঠোর বিধিনিষেধের সময় সংসার চালানোর তাড়নায় রাস্তায় নেমে পুলিশের জরিমানার মুখে পড়তে হয় তাকে। অমৃত মলঙ্গীর লাইভে সেদিন তিনি তার কষ্টের কথা জানান।

এই ভিডিও ২৭ হাজার বার শেয়ার হয়েছে! মন্তব্য পড়েছে ১ হাজারটি। প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন।

এখানে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখতে পারেন।

নিউজ হান্টের পথচলা শুরু হয়েছে ৬-৭ মাস আগে। এই কদিনে এমন সাড়া দেখে সম্পাদক মৌসুমী সুলতানা পাঠক-দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন সাংবাদিকতার নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। মাত্র এই কয় মাসে পাঠকেরা যেভাবে আমাদের গ্রহণ করেছেন তাতে আমি অভিভূত। একটি নতুন গণমাধ্যম হিসেবে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। আমাদের সাক্ষাৎকার-লাইভ লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে। কোনো কিছুই পেইড না। সব অর্গানিক রিচ।’

‘আমরা আশা রাখি পাঠকেরা এভাবে আমাদের সঙ্গে থাকবেন। একই সঙ্গে যারা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, তারা নিশ্চয়ই আমাদের সহযোগিতা করে যাবেন। যেখানে বাংলাদেশে একটি নতুন গণমাধ্যমের দাঁড়াতেই কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে ৬-৭ মাসে এমন জনপ্রিয়তা আমাদের সামনের দিনগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা।’

মাহাবুবকে সাহায্য করতে চাইলে নিউজ হান্টের অফিসিয়াল ফোন নম্বরে (01721027882) যোগাযোগ করতে হবে। তার বাড়িতে ফোন নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘দুর্নীতির কারণেই টিকা সংগ্রহে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি’
পরবর্তী নিবন্ধসাতক্ষীরায় মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়