নেইমারদের কাঁদিয়ে ছাড়লো ম্যানসিটি

21

শুধু জিতলেই হতো না, ব্যবধানটাও রাখতে হতো যথেষ্ট। পিএসজি পারল না তার কিছুই। দাপুটে পারফরম্যান্সে ফিরতি লেগে ২-০ গোলে জিতে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল ম্যানচেস্টার সিটি।

গোটা মৌসুমে যেমন খেলেছে, তেমন পারফরম্যান্স শিষ্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছিলেন পেপ গার্দিওলা। কোচের প্রত্যাশা মতোই দারুণ খেলেছে ম্যানসিটি। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে ওঠার সুযোগ নষ্ট হতে দেয়নি তারা।

অবশ্য শুরুতেই বিপদে পড়েছিল ম্যানসিটি। ৭ মিনিটে নেইমারের ক্রস বক্সের মধ্যে ওলাক্সান্দার জিনচেঙ্কো বিপদমুক্ত করেছিলেন। পিএসজির খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের দাবি করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু স্বাগতিকরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে রেফারি ভিএআর যাচাই করেন। রিপ্লেতে বল জিনচেঙ্কোর হাতে নয়, কাঁধ ছুঁতে দেখা গেছে। বাতিল হয় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।

কিছুক্ষণ পরই জালের দেখা পায় সিটিজেনরা। গোলকিপার এডারসন পিএসজির বক্সে বল তৈরি করে দেন। জিনচেঙ্কো বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সের সামনে কেভিন ডি ব্রুইনার কাছে বল পাঠান। বেলজিয়ান তারকার শট বক্সের মাঝখান থেকে মারকুইনহোস বিপদমুক্ত করলেও বল দূরের পোস্টে দাঁড়ানো রিয়াদ মাহরেজের সামনে পড়ে। আড়াআড়ি শটে কেইলর নাভাসের পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ৩০ বছর বয়সী আলজেরিয়ান উইঙ্গার।

১১ মিনিটের এই লক্ষ্যভেদে কোনও ইংলিশ ক্লাবের জার্সিতে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দুই লেগেই গোল করলেন মাহরেজ। এর আগে ২০১৮ সালে এই সাফল্য দেখান লিভারপুলের সাদিও মানে।

নেইমার ১৫ মিনিটে ম্যানসিটির বক্সের একটু সামনে ফ্রি কিক আদায় করেন। তার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়াল ছুঁয়ে মাঠের বাইরে যায়। কর্নার পায় পিএসজি। নেইমারের ভাসানো বল পেয়ে দূরের পোস্টে মারকুইনহোসকে দেন আনহেল দি মারিয়া। সবার চেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন মারকুইনহোস, কিন্তু ক্রসবারে আঘাত করে বল।

১৯ মিনিটে এডারসনের কাছ থেকে বল পেয়ে বার্নার্ডো সিলভা বিপদমুক্ত করার মুহূর্তে তা কেড়ে নেন দি মারিয়া। আর্জেন্টাইন তারকার দূর পাল্লার শট অল্পের জন্য গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ম্যানসিটির বক্সের মধ্যে আধিপত্য দেখায় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে তারা পাচ্ছিল না গোলের দেখা। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় সিটিজেনরা। ফের্নান্দিনিয়োর পাস থেকে মাহরেজের নেওয়া কোনাকুনি শট এবার রুখে দেন পিএসজি গোলকিপার নাভাস।

এক গোলে পিছিয়ে থাকা পিএসজি চাপ মাথায় নিয়ে বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে নেইমারের একটি দুর্দান্ত শট ব্লক করে ফরাসিদের হতাশ করেন জিনচেঙ্কো। ৬২ মিনিটে দলে দুটি বদল আনে পিএসজি। মাউরো ইকার্দির জায়গায় মোয়াসে কিন ও অ্যান্ডার হেরেরাকে উঠিয়ে হুলিয়ান ড্রাক্সলারকে নামায় তারা। তাতে বদলায়নি তাদের ভাগ্য। বরং ৬৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ম্যানসিটি। ডি ব্রুইনার সঙ্গে ওয়ান-টু পাস থেকে বক্সের মধ্যে ঢুকে ডান দিকে বল বাড়ান ফিল ফডেন। বল গড়িয়ে মাহরেজের সামনে পড়ে। নিজের দ্বিতীয় গোল করতে ভুল করেননি একটুও।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধমমতার তৃতীয় ইনিংস শুরু, আজ শপথ
পরবর্তী নিবন্ধবিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৩২ লাখ ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে