পথে পথে নিদারুণ কষ্ট

11

গণপরিবহন সংকটে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বুধবারের চেয়ে গতকাল যাত্রীদের বেশি ভুগতে হয়েছে। খিলক্ষেত থেকে প্রতিদিন মতিঝিলে গিয়ে অফিস করেন বেসরকারি চাকরিজীবী জুলহাস আবেদিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। একটার পর একটা বাস এলেও যাত্রী না নিয়েই চলে যায়। জুলহাসের মতো শখানেক অফিসমুখী যাত্রী এমন বিড়ম্বনায় পড়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এদিকে, রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরাও একাধিক স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। আজ ছুটির দিনও কমছে না ভোগান্তি।

অফিসগামী যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে না পেরে প্রতিবাদ জানাতে সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেতে রাস্তা অবরোধ করলে পুরো বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বনানী থেকে উত্তরা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের বাসে তোলার ব্যবস্থা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী ছাব্বীর আহম্মদ বলেন, করোনা সংক্রমণ বাড়ায় বাসগুলো অর্ধেক যাত্রীর বেশি তুলছে না। ফলে অফিসগামী মানুষ অনেকেই বাসে উঠতে পারছেন না। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খিলক্ষেত ওভারব্রিজের নিচে রাস্তা বন্ধ করে দেন।

ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, সরকার নির্দেশনা দিয়েছে, বাসগুলোতে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখতে হবে। কিছু বাস সেটা অনুসরণ করেছে। অনেক বাস অনুসরণ করেনি। এমনিতেই রাজধানীতে গণপরিবহনের সংকট। এ অবস্থায় বাসের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখলে যাত্রীরা কীভাবে গন্তব্য পৌঁছাবে। সব অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই তো খোলা। সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলে গণপরিবহনের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে। সেটা তো করা হয়নি। আবার রাইড শেয়ার বন্ধ রাখা হয়েছে। তাহলে যাত্রীরা কীভাবে চলাচল করবে?

সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বুধবারের চেয়ে গতকাল অফিসগামী যাত্রীদের বেশি ভুগতে হয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দর, মহাখালী, কাকরাইল, শাহবাগ, পল্টন, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তান এলাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁওয়ে দেখা যায়, শখানেক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বাসের দেখা নেই।

তারা বলেন, অন্যদিন বাসে যাত্রী তোলার জন্য চালকের সহকারীরা ডাকাডাকি করে। এখন পরিস্থিতি পুরো উল্টো। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষায় আছি, বাসের দেখা নেই।

রাইড শেয়ারগুলো বন্ধের সরকারি নির্দেশনার পর গতকাল রাইড শেয়ারের চালকরা বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। তারা জাতীয় প্রেস ক্লাব, শাহবাগ এলাকায় সকাল থেকেই জমায়েত হতে থাকেন। বিকেলে তারা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেন। তারা বলেন, মোটরবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৩০ হাজার পরিবার চলে এই রাইড শেয়ারে। তারা এখন কোথায় যাবেন? সকালে রাইড চালকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, গতকালও অনেক বাসযাত্রীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। অনেক চালকও ছিলেন মাস্কবিহীন। চালকের সহকারী ও সুপারভাইজারদের অনেকেরও ছিল একই অবস্থা। অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছেন। মাস্কবিহীন যাত্রীরা অবশ্য বলেন, গরমের মধ্যে মাস্ক বেশি সময় মুখে রাখা যায় না। দমবন্ধ হয়ে যায়। তবে মাস্ক তাদের সঙ্গে আছে।

গুলিস্তান থেকে সদরঘাটের যাত্রী আকতার হোসাইন বলেন, বাস ভাড়া পাঁচ টাকা ছিল। আজকে ১৫ টাকা চাচ্ছে। ভাড়া তো পাঁচ টাকার জায়গায় হওয়ার কথা আট টাকা। তারা নিচ্ছে ১৫ টাকা। অবশ্য এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি কাউকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া না দিতেও অনুরোধ করেন।

সরকারি নির্দেশনার পর গতকাল দূরপাল্লার বাসগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই আসন খালি রেখে চলাচল করে। তবে স্বল্পদূরত্বের লোকাল বাস ও মফস্বল এলাকার বাসগুলোকে এই নির্দেশনা তেমন অনুসরণ করতে দেখা যায়নি। ট্রেনগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলাচল করেছে।

নিউজ হান্ট/ম