পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির

18

হরতাল-সহিংসতায় ক্ষুব্ধ হয়ে পদ ছাড়ার ঘোষণার দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আবদুল আওয়াল। সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় রেলওয়ে জামে মসজিদের শবে বরাতের বয়ানে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে তিনি বলেন, তিনি আর হেফাজতের সঙ্গে থাকবেন না। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আবদুল আওয়াল বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে হরতালের দিন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ আর আর্মি আমাকে মসজিদে নজরবন্দি করে রেখেছিলেন। তারা আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওপর থেকে সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার অর্ডার রয়েছে। তাই আমি মিছিল নিয়ে হরতাল পালন করতে পারিনি। কিন্তু হেফাজতের একদল অতি উৎসাহী লোক আমাকে বুঝতে চাইছে না। অথচ সেদিন যদি আমি প্রশাসনকে উপেক্ষা করে হরতালের সমর্থনে বের হতাম, তাহলে হয়তো মসজিদে নামাজ পড়ার অবস্থা থাকতো না। মসজিদের সামনে কয়েকটা লাশও পড়তে পারতো।’

তিনি বলেন, ‘তখন কিন্তু আপনারাই লাশের পক্ষ নিয়ে বলতেন, মায়ের বুক খালি করে তোমাকে কে নেতৃত্ব দিতে বলেছে? তাই আমি এদিকেও যেতে পারিনি, ওদিকেও যেতে পারিনি। এখন আমার একটাই রাস্তা। আমি আমার জিম্মাদারি ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকবো না। আমার আমির পদ দরকার নাই। আমার পক্ষ থেকে আর কোনোদিন ঘোষণা আসবে না। তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা বাবা হেফাজতে ইসলাম করো। আমার বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, কথা বলতে পারি না।’

তাকে সাইড করা হয়েছে অভিযোগ করে আবদুল আওয়াল বলেন, ‘সোমবার দোয়া মাহফিলের কথা ছিল ডিআইটি মসজিদে। কিন্তু তারা আমাকে সাইড করে দিয়ে দেওভোগ মাদ্রাসা মসজিদে দোয়া মাহফিল করতে বলেছেন। তারা বলেছেন, আমার মতো নেতার প্রয়োজন নেই। তারা যেহেতু আমাকে সাইড করে দিয়েছে তাই আমি সাংবাদিক সম্মেলন করে হেফাজতের আমিরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিবো। আমি মুসল্লিদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি হেফাজতের আমিরের পদে থাকবো না।’

এদিকে প্রবীণ এই আলেমের হেফাজত ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে চলছে আলোচনার ঝড়। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে এ পদত্যাগের বিষয়টিকে বিশাল ফাটল বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও এ সিদ্ধান্তে ‘নাখোশ’ মহানগর হেফাজতের নেতারা দাবি করেছেন, আব্দুল আওয়াল সংগঠন বুঝেন না। তিনি নেতৃত্ব দিতে বা গুছিয়ে কাজ করতে পারেন না।

নিউজ হান্ট/কেএইচ