পাকিস্তানে একদিনে জোড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

14

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দিনে ভারত সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেছে দেশটি।

পাকিস্তানেরর কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী টুইটারে জানিয়েছেন, এর আগে দেয়া নিষেধাজ্ঞা সাসপেন্ড করেছে পেশোয়ার হাইকোর্ট। এরপর ভবিষ্যতে এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে খুব সতর্কতার সঙ্গে, যাতে পাকিস্তানের ভবিষ্যত অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি টাইমসের খবরে বলা হয়, এর আগে ভিডিও শেয়ারিংয়ের এই অ্যাপে অশালীনতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষকে (পিটিএ) টিকটক বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পেশোয়ার হাইকোর্ট। টিকটকের বিরুদ্ধে এক আবেদনের জবাবে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন ওই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি কায়সার রশিদ খান। তখন আদালতে উপস্থিত ছিলেন পিটিএ পরিচালক কামরান গান্দাপুর, উপ এটর্নি জেনারেল আমির জাভেদ এবং আসগার কুন্দি। এই শুনানিতে বিচারপতি রশিদ খান বলেছিলেন, টিকটকে যেসব ভিডিও শেয়ার দেয়া হয় তা পাকিস্তানের সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এতে যুবসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এর প্রেক্ষাপটে পেশোয়ার থেকে যেসব রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে তা সুখকর নয়। তিনি আরো বলেছিলেন, এসব ভিডিও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাই অবিলম্বে এটা বন্ধ করা উচিত।

অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থার বরফ গলে যাচ্ছে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে সীমিত পরিমাণে চিনি, তুলা ও গম আমদানির অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী এ দু’দেশের সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের আরেক প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডনের খবরে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার বুধবার দিনের শেষে বলেছে, ভারত থেকে পাঁচ লাখ টন চিনি আমদানির অনুমতি দেবে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসে চিনির চাহিদা বেড়ে যায়। এছাড়া ৩০ লাখ টন গম আমদানিরও অনুমতি দেবে সরকার।

অনির্দিষ্ট পরিমাণ তুলা ও সুতা আমদানিরও অনুমতি দেবে তারা। পাকিস্তানের অর্থনীতি এমনিতেই অচল হয়ে আছে। করোনা ভাইরাস মহামারির তৃতীয় ঢেউ সেই অবস্থাকে আরো করুণ করে তুলেছে। নতুন করে করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে নতুন করে লকডাউন দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করে ইসলামাবাদ। ভারত ওই বছর কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। উভয় দেশই তাদের শীর্ষ স্থানীয় কূটনীতিক, কনসুলার স্টাফদের বহিষ্কার করে অথবা প্রত্যাহার করে। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে ঘন কুয়াশায় আবৃত।

কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে চিঠি বিনিময়ের পর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করা হয়। উপরন্তু খবর বেরিয়েছে এই দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গোপন চ্যানেলে তারা কাজ করছে বলে খবর দিয়েছে ব্লুমবার্গ।

কাশ্মীর ইস্যুতে নয়া দিল্লির অবস্থানের পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও কেন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান? বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী হাম্মাদ আজহারকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, জনগণের স্বার্থে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করা ছিল একটি আবেগী সিদ্ধান্ত। বর্তমানে তা আবার শুরু হচ্ছে।

নিউজ হান্ট/আরকে