পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি ইস্যুতে বিভক্ত মার্কিনিরা

10

আফগানিস্তান থেকে সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখান থেকে সরে পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চাইছে তারা। যাতে করে আফগানিস্তানের ওপর নজর রাখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে রাজী হচ্ছে না পাকিস্তান। পাকিস্তান রাজী না হলেও মার্কিনিদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিকে প্রতিনিয়ত ফোকাস করা হচ্ছে।

পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি হবে কি হবে না সেটা নিয়ে খোদ মার্কিনিদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দেশটির কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে আলাপ আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। গতকাল সোমবার (৭ জুন) বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

২০০১ সালে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রথমদিকে সন্ত্রাসী আস্তানায় ড্রোন হামলার জন্য পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহার করতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তবে ২০১১ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে মার্কিন সেনারা হত্যা করার পর দুদেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে। তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ঘাঁটির ওই সুবিধা বাতিল করে দেয় পাকিস্তান।

এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র আবার পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা পাবে কিনা বা নতুন ঘাঁটি তৈরি হবে সে বিষয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ‘কিছু কর্মকর্তা পত্রিকাটি বলেছেন, পাকিস্তানের সাথে আলাপ-আলোচনা আপাতত এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। অন্যরা বলেছেন, বিকল্পটি টেবিলে থাকবে এবং একটি চুক্তি সম্ভব।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম জে বার্নস সম্প্রতি পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধানের সাথে সাক্ষাত করতে ইসলামাবাদে একটি অঘোষিত সফর করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড জে অস্টিনও পাকিস্তানি সামরিক প্রধানের সাথে আফগানিস্তানে ভবিষ্যতে মার্কিন অভিযানের জন্য দেশটির সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বারবার ফোন করেছিলেন।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, বার্নস পাকিস্তান সফরকালে তার মূল বিষয়টি তুলে ধরেননি, কারণ এই সফরটি সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করেছিল। তবে অস্টিনের কিছু আলোচনা আরও সরাসরি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনীহা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইসলামাবাদের সরকার পাকিস্তানের কোনো ঘাঁটি থেকে তালেবানদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘দেশটিতে (পাকিস্তানে) জনমত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও উপস্থিতির বিরুদ্ধে বেশ জোরালো রযেছে।’

প্রতিবেদনে গত মাসে সংসদে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কোনও মার্কিন ঘাঁটির অনুমতি দেবেন না।’

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধডিআইজি মিজানকে কেন জামিন নয়, হাইকোর্টের রুল জারি
পরবর্তী নিবন্ধরাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৩৮