পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মোদি?

18

২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে বরফ জমে আছে। সেই সমস্যা দিন দিন বেড়েছে ছাড়া কমেনি। এর মধ্যেই খবর পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইসলামাবাদের হাই-প্রোফাইল সূত্রের বরাত দিয়ে বালুচিস্তান টাইমসে এক লেখায় এমনটাই দাবি করেছেন পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী সাংবাদিক মুয়িদ পীরজাদা।

দুদেশের সম্পর্কের অচল অবস্থার মাঝেই একবার পাকিস্তানের মাটিতে পা রেখেছিলেন মোদি। তবে সেটা অফিসিয়াল কোনো সফর ছিল না। সেটা বরং যাত্রা বিরতি বলা চলে। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৫ সালে নেওয়াজ শরীফের আমলে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানে যাত্রা বিরতি করেছিলেন মোদি।

পীরজাদা তার লেখার শুরুতে বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনায় নিযুক্ত ছিল। সেই আলোচনায় কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের দিক থেকে আলোচনার সময় জানানো হয় যে, কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন আশঙ্কা রয়েছে তাদের। এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গ্যারান্টি সহ ভারতের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে রাজ্যে শাসন ফিরিয়ে দেওয়াও দাবি পাকিস্তানের। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশের মধ্যে আলোচনা সফল হতে পারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ২০২১ সালের অক্টোবরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তান সফর মধ্যদিয়ে, কারণ তখন মোদি পাকিস্তান করতে পারেন।

মোদি কেন পাকিস্তান সফর যাবেন বা মোদির পাকিস্তানের যাওয়ার মতো পরিবেশ আছে কিনা? এমন প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন পীরজাদা। তিনি মোদির সফরের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টিতে সাম্প্রতিক কিছু আলামতের কথা তুলে ধরেছেন। যেমন-ভারত কাশ্মীর নিয়ে সংলাপ শুরু করতে চেয়েছিল, প্রায় পাঁচ মাস আগে বিশিষ্ট ভারতীয় অ্যাঙ্কর করণ থাপারের সাথে আলাপকালে পাকিস্তানের তরুণ এনএসএ, ডাঃ মুয়িদ ইউসুফ এই বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। পরে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দ্রুত ধারাবাহিকতাভাবে বেশ কয়েকটি জিনিস ঘটেছিল: ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি পুনর্নবীকরণে ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমওস একমত হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যখন শ্রীলঙ্কা সফর করেছিলেন, তখন ভারত পাকিস্তানকে তার আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়েছিল, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার মন্তব্য, (দখলকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের অতীতকে দাফন করা এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে), ইসলামাবাদ সংলাপ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী খানের অসুস্থতার বিষয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টুইট এবং পরে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইমরান খানকে চিঠিটি লিখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ২৯ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং জোর দিয়েছিলেন যেসব বিষয়ে বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরের উপর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

পীরজাদা আরও লিখেছেন, ব্যাক চ্যানেলের আলোচনার প্রক্রিয়াটি বেশ ভালোভাবেই জারি আছে ও অব্যাহত থাকবে এবং বল এখন ভারতের কোর্টে রয়েছে।

সম্প্রতি খবর বের হয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ঠিক করতে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে কাজ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে পাকিস্তানের হাই-প্রোফাইল একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। মিডিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম আসলেও পীরজাদা বলছেন, ব্রিটেনও ভারত ও পাকিস্তানের দুই যুদ্ধরত রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে।

নিউজ হান্ট/আরকে