পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

7

৫৬ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রতারণা ও জাতিয়াতি করে ভুয়া আবেদনপত্র ও ভাউচারের মাধ্যমে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনার উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে হুমায়ন কবির মজুমদার কলেজটিতে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আয়-ব্যয় কর্মকর্তা (ডিডিও) হিসেবে কলেজের নামে চলমান ২৯টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন। সরকারি কলেজের সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন বা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৪ সালে জারি করা পরিপত্র প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক ছিলো।

কিন্তু তিনি সরকারি বিধি-বিধান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র তোয়াক্কা না করে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই তহবিল (হিসাব নং-০২০০০০৫৩৫২৫৮৯) থেকে পাঁচ ছাত্রনেতা ও কর্মচারীর নামে জালিয়াতিমূলকভাবে ভুয়া আবেদনপত্র ও বিল ভাউচার তৈরি করে নিজেই অনুমোদন করে ১৫টি চেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন; উন্নয়ন তহবিল (হিসাব নং-০২০০০০৫৩৫২৬৫৫) থেকে উন্নয়ন কমিটির সুপারিশ ছাড়াই কোটেশন ব্যতীত ভুয়া আবেদন ও বিল ভাউচার প্রস্তুতপূর্বক নিজেই অনুমোদন করে ৩৮টি চেকের মাধ্যমে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন; বিবিধ তহবিল (হিসাব নং-০২০০০০৫৩৪২৮১৬) থেকে অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত বাস্তবায়ন কমিটি গঠন না করেই ভুয়া আবেদনপত্র ও বিল ভাউচার করে নিজেই অনুমোদন করে ৩৭টি চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ চার হাজার ৪২ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন এবং বেসরকারি আদায় তহবিল (হিসাব নং-০২০০০০৫৩৫২৮২৩ ও ০২০০০০৫২৮৪) থেকে ভর্তি কার্যক্রম ও ফরম পূরণ বাবদ তিনি সরকার নির্ধারিত ফিসহ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সম্পূর্ণ টাকা হিসাব দুটিতে জমা করেন। উক্ত হিসাব থেকে ডিডিও হিসেবে তার চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। কিন্তু তিনি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সরাসরি ২৮টি চেকের মাধ্যমে ১৮ লাখ তিন হাজার ৭০৬ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির মজুমদার অসৎ উদ্দেশে প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া আবেদন ও ভাউচার তৈরি করে নিজেই অনুমোদন করে কলেজের ছাত্র সংসদ তহবিল, উন্নয়ন তহবিল, বিবিধ তহবিল এবং ভর্তি কার্যক্রম ও ফরম ফিলআপ তহবিল থেকে ৫৬ লাখ ৮ হাজার ৯৮৬ টাকা অগ্রণী ব্যাংক কলেজ গেট শাখা থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ২০১৭ সাল থেকে দীর্ঘ কয়েকদফা তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে আজ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

অধ্যক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আরও বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলছে। মামলার প্রয়োজনে তাকে যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি।

নিউজ হান্ট/ম

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজশাহী মেডিকেলের করোনা ইউনিটে আরো ৮ মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধ৩ আসনে উপনির্বাচন: ৪ দিনে আ.লীগের ৭৬ জনের মনোনয়ন