পিএসজিকে হারিয়ে ফাইনালের পথে ম্যানচেস্টার সিটি

21
ঘরের মাঠে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় ত্রাস ছড়ায় পিএসজি। তবে প্রথমার্ধের সেই ধার আর বিরতির পর ধরে রাখতে না পাড়ায় সাত মিনিটে দুই গোল করে অসাধারণ এক জয় তুলে নিল ম্যানসিটি। এতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।
বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের প্রথম লেগে পিএসজিকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুরুতে মার্কুইনহোসের গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে গেলেও বিরতির পর কেভিন ডি ব্রুইনা ও রিয়াদ মাহরেজ নৈপুন্যে জয় নিয়ে বাড়ি ফিরে সিটিজেনরা। গুরুত্বপূর্ণ দুই অ্যাওয়ে গোলের কল্যানে ইস্তাম্বুল ফাইনালের পথে অনেকটাই মসৃণ হয়ে গেল ইংলিশ জায়ান্টদের।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মাঝমাঠের ছোট্ট ভুলে বিপদে পড়তে পারতো সিটি। তবে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ছুটে ডি-বক্সে ঢুকে দুর্বল শট নিয়ে বসেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার।
পঞ্চদশ মিনিটে গোলের দেখা পায় লিগ ওয়ানের শিরোপাধারীরা। ডান দিক থেকে আনহেল দি মারিয়ার দারুণ কর্নারে লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে দলকে এগিয়ে নেন মার্কিনিয়োস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শেষ ১২ ম্যাচে এই নিয়ে পাঁচ গোল করলেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। তাছাড়া, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও আতোয়ান গ্রিজম্যানের পর মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে গোল করলেন ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।
৪২তম মিনিটে প্রথম নিশ্চিত সুযোগ পায় সিটি। কিন্তু ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন ফিল ফোডেন। পাঞ্চ করে ফেরান কেইলর নাভাস।
বিরতি থেকে ফিরেই এক অন্য রকম ম্যানচেস্টার সিটির দেখা যায়। আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় ছিলো কেভিন ডি ব্রুইনাময়। বেলজিয়াম তারকা মিডফিল্ডারের নেতৃত্বে পিএসজির ডিফেন্সে রীতিমতো আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় সিটিজেনরা। ফলও পায় হাতেনাতে।
৬৪তম মিনিটে স্বাগতিকদের হতবাক করে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে সমতায় ফেরান কেভিন ডি ব্রুইনা। বেলজিয়াম তারকা হালকা গতির দূর পাল্লার শট কেইলর নাভাস গতি প্রকৃতি বুঝে উঠার আগেই জাল খুজে নেয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ইতিহাসে ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম গোলও এটি।
গোল খেয়ে যেন খেলায় হারিয়ে যায় পিএসজি। ব্যবধান বাড়ানো দূরে থাক, উলটো সিটির আক্রমন সামলাতে হিমসিম খেতে হয় স্বাগতিকদের। ৭ মিনিট পর রিয়াদ মাহরেজের ফ্রি কিকে বল লাফিয়ে ওঠা রক্ষণ প্রাচীরে কিম্পেম্বে ও লেয়ান্দ্রো পারেদেসের মাঝ দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পেলে ম্যানচেস্টার সিটির জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষ দিকে পিএসজির কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয় ইদ্রিসা গেয়ির লালকার্ড। মেজাজ হারিয়ে সিটির ইলকাই গিনদোয়ানকে ফাউল করলে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়ে সেনেগালের এই মিডফিল্ডার। বাকিসময় আর কোন গোল না হলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।
আগামী রোববার ফিরতি লেগে ম্যানচেস্টারের ঘরের মাঠ ইত্তিহাদে মুখোমুখি হবে দুই দল। চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্নে বিভোর পিএসজিকে ফাইনাল খেলতে হলে সিটিজেনদের মাঠ থেকে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে।
নিউজ হান্ট/ইস
পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৬
পরবর্তী নিবন্ধকবি শঙ্খ ঘোষের পর করোনায় মারা গেলেন স্ত্রী