পোশাক শিল্পে নতুন ব্যবসায়িক মডেল

6

করোনা মহামারীর কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ধীরে ধীরে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) নতুন ব্যবসায়িক মডেল বা উদ্ভাবনী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। মহামারী-পরবর্তী ব্যবসায়িক অবস্থা পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই শিল্প খাতের সঙ্গে জড়িতরা কী করছে তার উপর একটি জরিপ চালানো হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭টি পোশাক কারখানার মধ্যে ছয় শতাংশ নতুন ব্যবসায়িক মডেল গ্রহণ করেছে।

‘বাংলাদেশ জাতীয় অগ্রাধিকার সূচক (এনপিআই) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) উপর বেসরকারী খাতের প্রভাব পরিচালনা করার একটি পথ ’- নামক জরিপ প্রতিবেদনে এও দেখানো হয়েছে যে, আরএমজি শিল্প খাত কেবল অর্থনৈতিক বিকাশে অবদানই নয়, সেই সঙ্গে এসডিজির ৯টি লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি জড়িত।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) যৌথভাবে ৪৭টি পোশাক কারখানার উপর গবেষণা চালিয়েছে এবং গতকাল রোববার একটি ভার্চুয়াল প্রোগ্রামের মাধ্যমে তার ফল প্রকাশ করে।

বিজিএমই-এর সভাপতি ডাঃ রুবানা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী জুয়েনা আজিজ।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭টি পোশাক কারখানাকে দেশের এনপিআই এবং এসডিজি অর্জনে তাদের অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়।

এই কারখানাগুলো গত অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) প্রায় ৪৪,০৬৪ জন কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল এবং গত অর্থবছরে মোট ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়ে, আরএমজি খাত কীভাবে কেবল দেশের সামষ্টিক-অর্থনৈতিক কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখছে না, পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, তার জনবলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে, কর্মশক্তির আপ-স্কিলিংয়ে বিনিয়োগ করেছে, ক্রমবর্ধমান নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার রিসোর্স রিসাইক্লিং গ্রহণ করেছে এবং এনপিআই ও এসডিজি অর্জনেও ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীক্ষা করা আরএমজি কারখানার প্রায় ১৩ শতাংশ শ্রমিক করোনা মহামারীর কারণে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২৪ শতাংশ কারখানার শ্রমিক কোভিড-আক্রান্ত হয়েছিল এবং করোনা ভাইরাসের নেগেটিভ পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে শ্রমিকরা গড়ে ২৫ দিনের মধ্যে কাজে
ফিরে আসেন।

নিউজ হান্ট/আরকে