বাংলাদেশে মোদির ৩৩ ঘণ্টা

39

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে ৩৩ ঘণ্টার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাড়াও গোপালগঞ্জ এবং সাতক্ষীরায় যাবেন নরেন্দ্র মোদি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে চলছে ১০ দিনব্যাপী নানা আয়োজন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এরইমধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০:৩০টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মোদির সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জায়গায় কড়া নিরাপত্তা নিয়েছে করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২৬ মার্চ ও ২৭ মার্চ দুদিনের সফরের প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মোদি। নরেন্দ্র মোদি আসা-যাওয়ার জন্য যেসব রাস্তা ব্যবহার করবেন সেসব রাস্তায় পুলিশি নিরাপত্তাসহ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নিয়োজিত রয়েছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য। এছাড়া যাতায়াতের জন্য নরেন্দ্র মোদি যে রুট ব্যবহার করবেন সেগুলোয় নজরদারি থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, নরেন্দ্র মোদি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর নরেন্দ্র মোদিকে বরণ করে নেওয়া হবে গান স্যালুটের মধ্য দিয়ে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। মোদি সেখান থেকে তেজগাঁও হেলিপ্যাডের উদ্দেশে রওনা হবেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার পর তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রদর্শন করবেন। দুপুরে সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিক হোটেলে অবস্থান করবেন তিনি।

এখান থেকে বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং বক্তব্য দেবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ মার্চ সকালের সাতক্ষীরার উদ্দেশে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে রওনা হবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মন্দির পরিদর্শন করবেন এবং পূজায় অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। এখান থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সে শ্রদ্ধা জানাবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেখানে অবস্থান করবেন। সেখান থেকে কাশিয়ানী উপজেলায় আরও একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন মোদি।

সেখান থেকে ঢাকায় এসে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এসময় দুদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন নরেন্দ্র মোদি।

সাক্ষাৎ শেষে রাতেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিউজ হান্ট/ম