‘বাংলাদেশ ও চীন একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’

9

কোয়াডে বাংলাদেশের যোগ না দেওয়ার প্রশ্নে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করছে না বেইজিং। কারণ বেইজিং মনে করে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলাদেশ ও চীন সব সময় একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুনিয়িং গতকাল বুধবার (১২ মে) বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (১০ মে) ঢাকায় কূটনীতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাংলাদেশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অনানুষ্ঠানিক জোট কোয়াডে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেন। কোয়াডে কোনোভাবে অংশ নিলে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে বলেও মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, কোয়াডে যোগ দেয়া উচিত হবে না দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের। এতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশকে ‘কোয়াড’ থেকে দূরে সরে থাকতে চীনা সতর্কতার একদিন পরে এর কড়া জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে তার নিজস্ব অধিকার আছে।

চীনা দূতের বক্তব্য বাংলাদেশকে অবাক করেছে। এর জের ধরে গতকাল পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ মিন মোমেন চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে সোমবারের বক্তব্যের ব্যাখা চান। লি জিমিং ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি এটি বলেছেন যে, ওই বক্তব্য সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নয়। তিনি ‘আউট অব কনটেক্সট’ সোমবার ওই বক্তব্য দিয়েছেন।

ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একজন সাংবাদিক গতকাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্রকে এ বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হুয়া ছুনিয়িং বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করেই বলতে চাই, বাংলাদেশ ও চীন অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে। আমরা সব সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতায় বিশ্বাস করি। দুই দেশ সব সময় একে অন্যের মূল স্বার্থ সুরক্ষা ও প্রধান উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে একে অন্যকে জোরালোভাবে সমর্থন করি।’

কোয়াডের প্রতি চীনের অসন্তোষ প্রকাশ করে হুয়া ছুনিয়িং বলেন, ‘আমরা সবাই জানি কোয়াড কি ধরনের কাঠামো। কয়েকটি দেশ বিশেষ একটি জোট করে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর যে সংঘাত উসকে দিতে চায় চীন সেটার বিরোধিতা করে।’

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার—চীন সব দেশকে সমভাবে মূল্যায়ন করে। যেটা আমি বলেছি, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি মূল নীতির ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে। আমরা সব সময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতায় বিশ্বাস করি। দুই দেশ সব সময় একে অন্যের মূল স্বার্থ সুরক্ষা ও প্রধান উদ্বেগ দূর করার ক্ষেত্রে একে অন্যকে জোরালোভাবে সমর্থন করি।

দক্ষিণ এশিয়াতে অবশ্যই চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মূল নীতির প্রতি অতীতের মতো বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।’

কোয়াডে ভারতের যুক্ততার প্রসঙ্গ টেনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া ছুনিয়িং বলেন, ‘আমি তো মনে করি, কোয়াডের অভিপ্রায় কি, সেটা আমাদের চেয়ে ভারত ভালো করেই জানে। এটা কি চীনবিরোধী একটি ছোট জোট নয়? এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতার মানে কিন্তু হস্তক্ষেপ নয়। বরং তা ছোট জোট আর গোষ্ঠীবদ্ধ রাজনীতির বিরোধিতা। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক শান্তি আর স্থিতিশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।’

কোয়াডের নেতৃত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা এটাকে একটি সমমনা গণতন্ত্রের দেশগুলোর অভিন্ন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তারা বলেছে, চীনের মতো দেশগুলো থেকে যেসব চ্যালেঞ্জ আসছে- তা মোকাবিলার জন্য কোয়াড সদস্যদেরকে উন্নততর অবস্থানে নিয়ে যাবে এই সংগঠন। এই জোটে নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও যোগ দিতে খোলামেলাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলামেলাভাবে এই জোটকে সরাসরি চীনবিরোধী আখ্যায়িত করে অনুমোদন দেয়ার ফলে অনেক দেশই এতে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করে। এর কারণ, দক্ষিণ কোরিয়া সহ অনেক দেশের জন্যই সবচেয়ে বড় একক বাণিজ্যিক অংশীদার এখন পর্যন্ত চীন।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধধ্বংসস্তুপে বসেই পুষ্পের হাসি
পরবর্তী নিবন্ধবাবার থেকে টাকা নিতে ‘মুক্তিপণ নাটক’