বাবার থেকে টাকা নিতে ‘মুক্তিপণ নাটক’

12

নওগাঁ থেকে একেএম কামাল উদ্দিন টগর: নওগাঁয় মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়ে পিতার নিকট থেকে দু’লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করার ঘটনায় মামলা দায়েরের২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অপহৃত পুত্রসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়া তার অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বদলগাছি উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের জনৈক মোঃ সিদ্দিক রহমানের বড় ছেলে রাসেল রানা গত ৯ মে তারিখ রবিবার সকাল ১০টায় বেতন উত্তোলনের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি তিনি।

১১ মে পর্যন্ত তার কোন খোঁজ না পেয়ে অবশেষে বদলগাছি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার পিতা। যার নম্বর ৪১৪ তারিখ ১১/০৫/২০২১ ইং। এরই মধ্যে উক্ত রাসেল রানার মোবাইল ফোন থেকে তার ছোট ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে জানানো হয় বিকাশের মাধ্যমে দুই লক্ষ টাকা না পাঠালে তাকে মেরে ফেলা হবে। এভাবে টাকা চেয়ে বার বার মোবাইল করতে থাকে।

পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে বদলগাছি এবং জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান এবং তল্লাশি শুরু করে। ১৩ মে রাত প্রায় ১টায় অপহৃত রাসেল রানাকে বদলগাছি উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছন থেকে উদ্ধার করা হয়। তারপর তাকে নিয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে ঘটনার মুল হোতা একই উপজেলার রনাহার গ্রামের সাইফুল ইসলামের পুত্র ফয়সাল আহম্মেদ ফাহিমকে আটক করে।

আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ নাটকের মুল তথ্য বেরিয়ে আসে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে এটি একটি সাজানো নাটক। কথিত অপহৃত রাসেল রানা মাদকাসক্ত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি। এসব অপকর্মের ফলে বিপুল পরিমাণ ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। এসব ঋণ পরিশোধের কোন উপায় ছিল না। ফলে পাওনাদারদের নিকট অপদস্থ হতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে পিতার নিকট থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা আদায়ের জন্য তার বন্ধু রামপুর গ্রামের নাজমুল হোসেনের বাড়িতে অন্য বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথাকথিত অপহৃত রাসেল রানা ৯ মে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের কথা বলে বেরিয়ে যায় আর ফিরে আসে না। স্বেচ্ছায় অন্তরালে চলে গিয়ে তার বন্ধুদের দিয়ে অপহরণের দায়ে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে মোবাইল ফোন করে।

উক্ত রাসেল রানার পিতা কর্তৃক দায়েরকৃত এজাহারটি টি পরবর্তীতে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। যা বদলগাছি থানার মামলা নম্বর ৯/১১৯, তারখি ১৩-০৫-২০২১ ধারা ৪১৭/৩৮৫/৩৮৭/৩৪ দণ্ডবিধি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘বাংলাদেশ ও চীন একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’
পরবর্তী নিবন্ধবাগেরহাটে ঈদের প্রধান জামায়াত হবে ষাট গম্বুজ মসজিদে