বাসে উঠাই যেন আরেক পরীক্ষা

22

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারকে নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হয়েছে। ২৯ মার্চ জারি করা এ সংক্রান্ত ১৮ দফা নির্দেশনার মধ্যে একটি ছিল গণপরিবহন চলবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে। আর তার জন্য যাত্রীদের দিতে হবে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া। আজ (বুধবার) সকাল থেকে দু’সপ্তাহের জন্য কার্যকর হয়েছে নতুন এই নিয়ম।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, জিগাতলা, ধানমন্ডি, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেত, আজিমপুর, চানখারপুলসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে বাসগুলোকে নির্দেশনা মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়েই চলতে দেখা গেছে। তবে এ কারণে যাত্রীরা পড়েছেন নতুন বিড়ম্বনায়। বেশিরভাগ যাত্রীই সময়মতো কাঙ্ক্ষিত বাসে উঠতে পারছেন না।

বিশেষ করে, সকালের দিকে অফিসমুখী মানুষকে পড়তে হয়েছে বেশি সমস্যায়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারেননি অনেক চাকরিজীবী। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা হাসিনা বেগম নামে একজন বলেন, বাস আসা মাত্রই সবাই হুড়োহুড়ি করে একটি বা দুটি ফাঁকা সিটে উঠে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা অনেক নারী চাকরিজীবী অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো গাড়িতে উঠতে পারছি না।

আরেক যাত্রী শরিফ হাওলাদার বলেন, আজ প্রথম দিন হওয়াতে খুব ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এমন সংকট তৈরি হবে তা হয়ত অনেকেই ভাবতে পারেননি। দু’একদিন পর এই অবস্থা ঠিক হয়ে যাবে।

আবার যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের। বিকাশ পরিবহনের কন্ডাক্টর পারভেজ হোসেন বলেন, ‘অনেক যাত্রীই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না। আমাদের এখানে কী করার আছে? সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। একদিকে যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না, অন্যদিকে আমরা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে পুলিশের কাছে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।’

একই ধরনের অভিযোগ ঠিকানা পরিবহনের কন্ডাক্টর শামসুল ইসলামেরও। তিনি বললেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায় করতে গিয়ে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো যাত্রী বলছেন বাড়তি ভাড়া দেব না, তুমি অতিরিক্ত যাত্রী উঠাও। আর অন্যদিকে বাড়তি যাত্রী পরিবহন করলে আমাদের জরিমানার ভয় থাকছে।’

আজিমপুরে দায়িত্বপালনরত ডিএমপির ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গণপরিবহনগুলোর যাত্রী সংখ্যার দিকে আমরা নজর রাখছি। বাড়তি ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনার কোনো অভিযোগ আমরা এখনও পাইনি।’

করোনা সংক্রমণের প্রথম দফায় গত বছরও গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশ দেয়ার পর ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়িয়েছিল সরকার। পরে সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় আবার স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছিল।

চলতি বছর জানুয়ারির শেষের দিকে এসে দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই কমে আসে। কিন্তু মার্চের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। এ অবস্থায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নতুন করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

নিউজ হান্ট/ম