বাড়ির প্রবেশ-বের হওয়ার পথ বন্ধ, বিপাকে কৃষক পরিবার

20

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপালে তুচ্ছ ঘটনায় বাক-বিতণ্ডার জেরে মিকাইল হোসেন নামের এক কৃষকের বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধেও অসহায় কৃষক পরিবারটি তাদের চলাচলের পথ ফিরে পাননি।

বাধ্য হয়ে মানুষের ঘের ও রাস্তার পাশের খাল পার হয়ে চলাচল করছেন তারা। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের নিশ্চয়তায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় পরিবারটি।

অসহায় কৃষক মিকাইল হোসেন বলেন, রাজনগর মৌজায় ৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে ত্রিশ বছর যাবত বসবাস করছি।বছর তিনেক আগে আমার প্রতিবেশী বালুর ব্যবসায়ী তহিদুল হাজরার সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমাদের বাক বিতণ্ডা হয়। এরপর তহিদুল হাজরা লোকজন নিয়ে আমাদের পথ আটকে বেড়া দিয়ে দেয়। আমরা ভাবছিলাম রাগের মাথায় বেড়া দিয়েছে, কিছুদিন গেলে হয়ত খুলে দিবে। কিন্তু বছর খানেক পরও যখন পথের বেড়া খোলেননি তখন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাই। তারাও একাধিকবার সালিস মীমাংসার মাধ্যমে আমাকে পথ দিতে বলেছেন কিন্তু তহিদুল পথ দেয়নি। আমরা এক ধরনের বন্দী জীবন যাপন করছি। আমি স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমার পথের জমি ফেরত চাই।

মিকাইল আরও বলেন, আমরা যে জমি থেকে যাতায়াত করতাম, ওই জমিও তহিদুলের নয়। সে জোরপূর্বক ওখানে বেড়া দিয়েছে।

মিকাইলের স্ত্রী আফিরুণ বেগম বলেন, বাড়িতে হাস-মুরগী ও গরু ছাগল পালন করে ছেলে-মেয়ে পড়াশুনা করাচ্ছি। আমাদের যাতায়াতের পথ আটকে দেয়ায় এমন বিপদে পড়েছি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। মাঝে আমার একটি গরু অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। রাস্তা বন্ধ থাকায় গরুটিকে চিকিৎসকের কাছেও নিতে পারিনি। আবার চিকিৎসক বাড়িতে আনব সে ব্যবস্থাও আমার ছিল না রাস্তার কারণে।

মিকাইলের মেয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী লাবনী খাতুন বলেন, শুকনো মৌসুমে মানুষের ঘের, ধানের জমিসহ সুবিধা মত স্থান থেকে প্রয়োজনীয় যাতায়াত করি। কিন্তু বৃষ্টির মৌসুমে পানির ভিতর থেকে সাতরে বাড়ির বাইরে যেতে হয়। কিভাবে এখানে বসবাস করব। তহিদুল কাকার যদি আমাদের উপর এতই রাগ থাকে তাহলে আমাদের অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দিক এখান থেকে চলে যাই এ বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন লাবনী।

হীরু শেখ, মোঃ মারুদ শেখ, মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মিকাইলের যাতায়াতের রাস্তাটি ছিল প্রভাষ ও সুভাষ ঘোষের মালিকানাদীন জমি। দীর্ঘদিন মিকাইল যাতায়াত করার কারণে, প্রভাষ এবং সুভাষ যখন তাদের জমি তহিদুল হাজরার বাবা খলিল হাজরার কাছে বিক্রি করেছিলেন তখন ৪ শতাংশ জমি কম বিক্রি করেছিলেন। যাতে মিকাইলের হাটার পথে কোন সমস্যা না হয়। তারপরও তহিদুল মিকাইলের হাটার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তহিদুল শোনেননি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর রহমান ফরাজী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসেছি। মিকাইল ও তহিদুলের জমি পরিমাপও করা হয়েছে। তহিদুল যে জমিতে বেড়া দিয়েছে ওখানে পূর্বের মালিক প্রভাষ ও সুভাষ ঘোষের কিছু জমি রয়েছে। ওই জমি ছেড়ে দিলে মিকাইল সুষ্ঠভাবে তার বাড়ি থেকে বের হতে পারত। কিন্তু তহিদুল কোনভাবেই আমাদের কথা শুনতে নারাজ।

রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আঃ হান্নান ডাবলু বলেন, তহিদুলের জমির মধ্যে পূর্বের মালিক প্রভাষ ও সুভাষ ঘোষের জমি রয়েছে। ওই জমিটুকু ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমরা তহিদুল হাজরাকে বলেছি।

তহিদুল হাজরা সাংবাদিকদের বলেন, আমার শত্রুর সাথে আমি কোন আপস করব না। সে কোন জায়গা দিয়ে বের হবে তা তার ব্যাপার।

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবীর হোসেন বলেন, কারও চলাচলের পথ বন্ধ করাটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির কাছ থেকে কোন অভিযোগ বা আবেদন পেলে দুই পক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের ব্যবস্থার আশ্বাস দেন তিনি।

নিউজ হান্ট/কেএইচ