বিধিনিষেধ বাড়ছে?

33

করোনা মহামারি বিস্তার রোধে চলমান লকডাউন এরই মধ্যে তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। এই বিধিনিষেধ আরও বাড়তে পারে। তবে, বাড়লেও গণপরিবহনের মতো কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধে আসতে পারে শিথিলতা। কারণ, চলমান লকডাউন বাড়ানো এবং ঈদের আগে গণপরিবহন সীমিত আকারে খুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে সারকার। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সে অনুযায়ী, আগামী ৫ তারিখে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক এবং নির্ধারিত বন্ধ ছাড়া এ বিধিনিষেধ শেষে ঈদের আগে কর্মদিবস থাকবে মাত্র ৩ দিন। এ জন্য বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা কম। বরং চলমান লকডাউনের মেয়াদ বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একইসাথে ঈদের আগে সীমিত আকারে গণপরিবহন খুলে দেয়ারও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

‘ঈদের আগে যেহেতু কর্মদিবস কম সেহেতু বিধিনিষেধ চলমান রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হতে পারে’,নাম প্রকাশ না করে এমনটাই জানিয়েছেন একজন
মন্ত্রিপরিষদ সদস্য।

যেহেতু চলমান বিধিনিষেধ শেষে বৃহস্পতিবার ৬ মে প্রথম কর্মদিবস। এরপর ৭ ও ৮ মে শুক্র-শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ৯ মে রোববার এক দিন কর্মদিবস থাকলেও পরেরদিন ১০ মে সোমবার শবে কদরের ছুটি। এর পরদিন ১১ মে মঙ্গলবার কর্মদিবস হলেও ১২ মে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। সে হিসেবে ঈদের আগে কর্মদিবস পাওয়া যাবে মাত্র তিন দিন।

এমন প্রেক্ষাপটে অভিন্ন কথা জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আরেক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কিছু শর্ত শিথিল করে বিধিনিষেধ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। চলমান বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার আগে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন,‘বিধিনিষেধ বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় গত ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। পরে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ। এটি বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাজনিত রোগ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় কয়েকটি শর্ত সংযুক্ত করে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপের সময় বাড়ানো হলো।

এদিকে, দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা দুদিন কিছুটা কমলেও আজ আবার বেড়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আরো ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দেশের ২ হাজার ৩৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে, সর্বশেষ শনাক্তসহ দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫। সর্বশেষ ৮৮ জনসহ বাংলাদেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৯৩।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে চলছে লগডাউন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করছে সরকার। দেশে এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা। গত মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) জরুরি ব্যবহারে জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটিনক-ভি। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) চীনের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সিনোফার্ম টিকার অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোট শেষে বুথফেরত সমীক্ষা: পশ্চিমবঙ্গে মমতাই আসছেন ক্ষমতায়
পরবর্তী নিবন্ধনাটোরে দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ