বৃদ্ধা শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার পুত্রবধূদের

15

নড়াইল থেকে মোঃ আজিজুল ইসলাম: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জামরিলডাঙ্গা গ্রামের ৭৪ বছরের বৃদ্ধা সালেহা বেগমকে পুড়িয়ে হত্যার রহস্য বেরিয়ে এসেছে। নিহত সালেহা বেগমের দুই পুত্রবধূ কুলসুম ও নারগিস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

নড়াইলের আমলী আদালত কালিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে এ জবানবন্দী প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মানুল্লাহ আর বারী জানান, শুক্রবার দুপুরে নিহত সালেহা বেগমের পুত্রবধূ আরিফ খন্দকারের স্ত্রী কুলসুম ও বৃহস্পতিবার দুপুরে অপর পুত্রবধূ ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নারগিস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

নিহতের ছেলে ইরুপ খন্দকার, ইরুপ খন্দকারের জামাই মিরাজ ও আরিফ খন্দকারের ছেলে রাশেদ খন্দকার পুড়িয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান। বৃদ্ধার ছেলে ৯ মাস আগে নিহত আরিফ খন্দকার হত্যা মামলার আসামীদের শায়েস্তা করতেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অবশ্য বৃদ্ধার পুত্রবধূ ইরুপ খন্দকারের স্ত্রী নারগিস দাবি করেন, পুলিশ ভয় দেখিয়ে জবানবন্দী দিতে বাধ্য করেছে।

জানা গেছে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের জামলিডাঙ্গা গ্রামের মৃত নূর আলী খন্দকারের স্ত্রী সালেহা বেগমকে (৭৪) গত ২২ মে রাতে পুড়িতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ির বারান্দায় পাটকাঠি দিয়ে ঘেরা কক্ষে রাত্রিযাপন করতেন।

পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের মেয়ে মিনি বেগম বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাতনামা ৬/৭জনকে আসামী কলে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১, তাং-২৫/০৫/২১ইং। ঘটনার পর নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় (পিপিএম বার) সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহত সালেহা বেগমের ছেলে ইরুপ খন্দকার দাবি করেন, তার ভাইয়ের হত্যাকারীরা জেল থেকে বেরিয়ে এসে বৃদ্ধ মাকে হত্যা করেছে। কি কারণে হত্যা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ইরুপ খন্দকার বলেন,আমার ভাই আরিফ খন্দকার হত্যা মামলাটি মীমাংসা না করায় আমার মাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ জানান, বৃদ্ধা সালেহা বেগম তিন বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। এলাকায় কারও সাথে কোন শত্রুতা নেই। পরিকল্পিত ও নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আমানুল্লাহ আর বারী বলেন, ‘ঘটনার পর মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকাজ চালানো হয়েছে। নিহতের দুই পুত্রবধূ নাগরিস ও কুলসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করেছে। সে মোতাবেক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। প্রকৃত দোষীরা যাতে আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

নিউজ হান্ট/কেএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘কাতার অতীত, বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ’
পরবর্তী নিবন্ধ৫০০ ডলারে বিদেশ যাওয়ার চুক্তি, এয়ারপোর্টে গিয়ে দেখেন প্রতারক