বেকায়দা বুঝে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী দরজায় চীন

8

১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে সহিংস কায়দায় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সামরিক জান্তা। মিয়ানমারের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সামরিক জান্তা ছাড়াও নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধেও দেখা যাচ্ছে, আর সেই দেশটি চীন।

প্রতিবাদ-বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চীনের মদদ পেয়েই অভ্যুত্থানের সাহস পেয়েছে এবং দিনকে দিন নির্মম হচ্ছে সামরিক বাহিনী। স্থানীয় নজরদারিকারী একটি গ্রুপের মতে, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। সে জন্য বিক্ষোভের সময় চীনের পতাকায় আগুন দিতে দেখা যায়। তাছাড়া একাধিকবার হামলা হয়েছে চীনা অর্থায়নের শিল্প-কারাখানায়। অবস্থা বেকায়দা বুঝে এখন মিয়ানমারের ছায়া দরজায় কড়া নাচছে চীন।

মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইরাবতী’ বলছে, মিয়ানমারে চীনা দূতাবাস প্রথমবারের মতো বহিষ্কার হওয়া ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেছে।

একাধিক সূত্র দ্য ইরাওয়াদ্দিকে নিশ্চিত করেছে যে ইয়াঙ্গুনের দূতাবাসের একজন পরামর্শক গত সপ্তাহে পাইডাংসু হাল্টা (সিআরপিএইচ) প্রতিনিধিত্বকারী কমিটির সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। পাইডাংসু হাল্টু মিয়ানমারের ইউনিয়ন সংসদ। সামরিক শাসনের বৈধতার চ্যালেঞ্জ হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পরে এনএলডি আইনবিদরা এটা প্রতিষ্ঠা করে, এই সিআরপিএইচ বর্তমানে দেশে এবং বিদেশে জনপ্রিয় সমর্থন উপভোগ করছে।

এই ফোন কল ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ক্ষমতাচ্যুত এনএলডি সরকারের আইনবিদদের এবং চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম যোগাযোগ। সিআরপিএইচ এর আগে বেইজিংয়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের দাবি করেছিল।

ফোন কল চলাকালীন উভয় পক্ষই সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি নিয়ে আলোচনা করেছে।

ইরাবতী জানতে পেরেছে যে, সিআরপিএইচ চীনের কাছে অভ্যুত্থানকারী সামরিক নেতাদের ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আনার এবং দেশে বেসামরিক শাসন পুনরুদ্ধারের কমিটি এবং মিয়ানমারের জনগণের প্রচেষ্টা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে।

নিউজ হান্ট/আরকে