বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর বাতিলের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

11

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর যে ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা আগামী ১০ জুনের ভেতর বাতিলের সময় বেঁধে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৪ জুন) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এই সময়ের ভেতর কর বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনে নামা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মুক্ত রেজোয়ান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ছয়টি দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো- প্রস্তাবিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে ১৫ শতাংশ কর বাতিল করতে হবে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় হিসাব ইউজিসিকে খতিয়ে দেখতে হবে, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করতে হবে, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং করোনার সময়ে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিতে প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আপনারা বিগত ২০১০ ও ২০১৫ সালে দেখেছেন বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে সরকারের যে অযৌক্তিক ভ্যাট চাপানোর চেষ্টা তার বিরুদ্ধে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ সরব ছিল এবং বেসকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে পণ্যে রূপান্তরের যে অপচেষ্টা তা রুখে দিয়ে ২০১৫ সালে সরকারকে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এবারও আগের মতো আমরা বলতে চাই শুধু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় যেখানেই শিক্ষাকে পণ্যে রূপান্তরের ন্যূনতম চেষ্টা চলবে সেখানেই আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন- ২০১০ এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। যদি তা-ই হয় তবে কী করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মালিকপক্ষ মুনাফা অর্জন করে। ২০১০ সালের আইন অনুযায়ী বলা চলে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মালিকপক্ষ যে মুনাফা অর্জন করছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। গতকালের প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ মুনাফা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে এবং অবৈধ মুনাফাকে বৈধতা দেওয়ারও চেষ্টা করছে।

মুক্ত রেজোয়ান বলেন, আমরা এ সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যে কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়লে ছাত্র-সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এছাড়া আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বিগত বাজেটের মোট জিডিপির তুলনায় ০.০৩৬ শতাংশ কমেছে। তাই এ বাজেট কোনোভাবেই শিক্ষাবান্ধব হতে পারে না। আমরা শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির ৮ ভাগ বরাদ্দের দাবি করছি।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপ করা হয়েছিল। তবে মামলার কারণে আদায় হয়নি। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন নতুন করে কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

২০১০ ও ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরে সরকার ভ্যাট আরোপ করলে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সরব হয়েছিলেন এবং ২০১৫ সালে আন্দোলনের মুখে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

নিউজ হান্ট/এনএইচ

পূর্ববর্তী নিবন্ধএখনো ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া: ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধবিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রাণ গেলো চাচা-ভাতিজার