ব্রিটেনে হেঁটেই মানুষের সাহায্য করছেন বাংলাদেশের আমিন

13

মানুষের সাহায্যে অন্যন্য নজির গড়ছেন বাংলাদেশের আমিন বাবর চৌধুরী। ইংল্যান্ডে নিজে যেখানে থাকেন সেই স্থানীয় এবং বাংলাদেশি দাতব্য সংস্থাগুলোর সহায়তায় রোজার রেখেও ১০০ মাইল পথ হেঁটে পাড়ি দেবেন তিনি। আর এভাবে হেঁটেই তহবিল সংগ্রহ করে মানুষে সাহায্য করবেন আমিন।

আমিন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শিক্ষাও গ্রহণ করেছেন এখানে। তিনি বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছেন এবং ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই ওল্ডহ্যাম সম্প্রদায়ের একজন প্রতিষ্ঠিত পাবলিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

তার উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য, সমাজে স্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্যের প্রচার এবং শারীরিককের্মকাণ্ডসহ অবশ্যই সব ভালো কারণে তহবিল বাড়াতে জোর দেয়া।

অনেকে অনেকভাবে তহবিল সংগ্রহ করেন। তবে আমিন এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান যে, দৌঁড়ানো বা জিমে যাওয়ার তুলনায় হাঁটা মানুষের ফিট থাকার এক টেকসই, উপভোগযোগ্য রূপ। হাঁটাচলা ব্যায়ামের একটি অবহেলিত রূপ, তবে এটাও স্ট্যামিনা তৈরি করে, ক্যালোরি পোড়ায় এবং হার্টকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

এশিয়ান ইমেজকে আমিন বলেছেন: অনেক দাতব্য সংস্থা আছে যারা পুরো রমজান মাসজুড়ে প্রচারণা চালায় এবং তারা দুর্দান্ত কাজ করে। তবে আমাদের প্রচারণা মূলত ওল্ডহাম ভিত্তিক এবং এখানেই তহবিল সংগ্রহ করে। আমাদের লক্ষ্য ৫০ হাজার পাউন্ড (ব্রিটিশ মুদ্রা) সংগ্রহ করা এবং সেটা তিনটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা।

তিনি আরও বলেন,: বাংলাদেশের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ওল্ডহামে আইএলবি (আই লাভ বাংলাদেশ) নামে একটি কমিউনিটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গ্রুপ আছে, যারা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অর্থ সংগ্রহের জন্য এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুবিধা স্থাপনের জন্য টিউব ওয়েলস প্রকল্প শুরু করেছিল।

আমিন বলেন: আমি হযরত মুহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে জেনেছি, যিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। কারণ তিনি সমগ্র মানবতার জন্য রহমত হিসাবে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি শুধু মুসলিমদের নয় সমস্ত মানবজাতির জন্য ভালো কাজ করেছেন। আমরা তার মতো সব কিছুতেই তাকে অনুসরণ করি, আমাদের উচিত সকল সম্প্রদায়- মুসলিম এবং অন্যান্য সবার সেবা করার চেষ্টা করা।

২০০৯ সালে আমি দেশের কয়েকটি ইংরেজি-বাংলা দ্বিভাষিক প্রকাশনা ‘প্রবাস বাংলা’ চালু করতে সহায়তা করেছিলেন। যা যুক্তরাজ্য বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের জন্য একটি কণ্ঠ হয়ে উঠে এবং তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মকে সংযুক্ত করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

আমিন চৌধুরী ওল্ডহ্যাম ভিত্তিক ডা. কার্শ’স হসপিস সহ দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং প্রচারমূলক কর্মকান্ডে গভীরভাবে জড়িত।

২০১৮ সালে তাকে কিংফিশার বিদ্যালয়ের গভর্নর হওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যা ২-১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ প্রয়োজনের স্কুল, সেটা গুরুতর এবং জটিল শারীরিক সমস্যা বা শেখার অসুবিধা সহ সব শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণ করে। আমিন খেলাধুলা, বিশেষত ক্রিকেট সম্পর্কেও অনুরাগী।

লর্ড ওয়াজিদ খান তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন এবং বলেছেন০: এটি একটি স্মরণীয় প্রচেষ্টা, আমাদের প্রার্থনা আমিনের সাথে রয়েছে এবং আমরা তার জন্য গর্বিত, আমরা তার উত্সর্গ এবং প্রচেষ্টা দেখে অবাক হয়েছি। আমাদের সকলকে এই দুর্দান্ত কাজের সমর্থন করা দরকার।

নিউজ হান্ট/আরকে

পূর্ববর্তী নিবন্ধকরোনা নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার জনগণ বিশ্বাস করে না: কাদের
পরবর্তী নিবন্ধকরোনা সচেতনতায় গুগলের নতুন ডুডল