রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ভিকারুননিসা স্কুলের অধ্যক্ষের ফোনালাপ এখন টক অব দ্যা টাউন

আরও পড়ুন

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে টেলিফোনে এক অভিভাবককে গালি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন অভিভাবক অধ্যক্ষের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তাকে গালি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভিকারুননিসা অভিভাবক ফোরাম।

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এটা এখন টক অব দ্যা টাউন।

ফোনালাপের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি। কোনো… বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব। আমি শুধু ভিকারুননিসা না, আমি তাকে দেশ ছাড়া করব।’

যদিও অধ্যক্ষ কামরুন নাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিভাবক ফোরাম নামে অভিভাবকদের একটি সংগঠন নানাভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে। আর গালি দেয়ার ফোনকল রেকর্ডটি এডিট করা। অভিভাবকদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়নি বলেও দাবি করেন অধ্যক্ষ।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যক্ষের সঙ্গে মীর শাহবুদ্দিন টিপু নামের এক অভিভাবক টেলিফোনে কথা বলতে গেলে তিনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। অভিভাবক তার কাছে অফিস করা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি গালাগালি শুরু করেন। অধ্যক্ষ নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলেছেন।

আবদুল মজিদ আরও বলেন, কিছুদিন আগে অধ্যক্ষ গরুর হাট বসিয়েছেন। তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমরা। এরপর থেকে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে এ ধরণের আচরণ শুরু করেছেন।

ফোন কল রেকর্ডের বিষয়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, আমার সাথে কোন অভিভাবকের ফোনে কথা হয়না। তাই গালাগাল করার প্রশ্নই আসে না।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, অভিভাবক ফোরাম নামে একটি সংগঠন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে ক্যাম্পাসে ব্যবসা করার ফন্দি করছেন। তাদের ব্যবসার অনুমতি না দেয়ায় তারা নানা অপপ্রচার করছে। টিপু, মজিদ, রানাসহ অনেকে নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

কয়েকজন অভিভাবকের অন্যায় দাবি না মানায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি শিক্ষা সচিবকে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করি। সরকারের দেয়া দায়িত্ব পালন করছি। কোনো অভিভাবকের যদি আমাকে নিয়ে সমস্যা থাকে আমাকে তদবির করে বদলি করে দিক। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার যেন না করে।

চার মিনিট ৩৯ সেকেন্ড ধরে চলা ওই কথোপকথন এখন টক অব দ্যা টাউন। সেই অডিও ফোনালাপে এমন কিছু গালাগালি রয়েছে যা প্রকাশের অযোগ্য।

ফাঁস হওয়া ওই অডিও ভিএনএসসির দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা। তারা বলেন, অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এ বছরের প্রথম দিন যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি বললেই চলে। কেউ যদি তাকে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়ে অনুরোধ করেন, তিনি (কামরুন নাহার) সবাইকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি শুধু একজন শিক্ষিকা নন- ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মন্ত্রী, সচিবালয় এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত তার পক্ষে আছে বলেও গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা দাবি করেন।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ