মধুমতীর চরে বাঙ্গির বাম্পার ফলন

54

চিতলমারী (বাগেরহাট) থেকে বিভাষ দাস: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মধুমতী নদীর চরাঞ্চলে দিগন্ত জোড়া মাঠে বাঙ্গি ফলের দৃষ্টিনন্দন ফলন হয়েছে। সবুজ-হলুদ রঙে সেজেছে বাঙ্গির ক্ষেত। বাহারি এই মৌসুমী ফল বাঙ্গির বাজার দরও চড়া। ফলন ও বাজার দরে খুশি এখানকার চাষিরা।

এ বছর বাঙ্গি চাষের উপযোগী আবহাওয়া বিরাজ করায় চাষীরা ভালো ফলন পাচ্ছে। মাঠের পর মাঠ বাঙ্গির সমারোহ। অতি বৃষ্টির কারণে অন্যান্য বছরের মত ফল পচে যাবার ঘটনা ঘটেনি। পোকা মাকড়ও কম হয়েছে। কৃষকরা প্রয়োজনীয় পানি সেচ ও কীট পতঙ্গ ঠেকাতে কীটনাশক প্রয়োগ করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। চিতলমারী এলাকায় বাঙ্গির চাহিদাও প্রচুর। অপর দিকে বাইরের পাইকাররা এসেও বাঙ্গি দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে পৌঁছে দেয়ায় বাজার দরও আশানুরূপ বলে চাষীরা জানিয়েছেন।

উপজেলার শৈলদাহ গ্রামের বাঙ্গি চাষি কবিতা রানী ঘরামী জানান, ‘এ বছর দেড় একর জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছি। প্রায় সাড়ে তিন মাস পরিচর্যার পর ফল পাকা শুরু করেছে। প্রতিদিন পাকা বাঙ্গি তুলে বাজারে পাঠাচ্ছি। দামও খারাপ নয়। আশা করছি বাঙ্গি চাষ করে খরচ তুলে লাভ করতে পারবো ।

বাঙ্গি চাষি তাপস বাড়ৈ জানান, আমি আমার এক একর জমিতে বাঙ্গি চাষের পাশাপাশি খিরাই, ঢেঁড়স, উচ্ছেসহ অন্যান্য সবজীর চাষও করেছি। একই সময়ে জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফসল ফলাতে পেরে আমার অর্থনৈতিক সাফল্য আসবে বলে মনে করছি।

একই গ্রামের শাহাজান শেখ, ইব্রাহিম শেখ, জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য চাষীরা জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় আকারের (প্রায় পাঁচ কেজি) বাঙ্গি প্রতিটি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি আকারের (প্রায় তিন কেজি) প্রতিটি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং ছোট আকারের (প্রায় দেড় কেজি) প্রতিটি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে কেনা-বেচা চলছে । সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা থাকলে বাঙ্গি প্রতি চাষিরা এর দেড় গুন টাকা পেত।

চিতলমারী উপজেলা সদর বাজারের পাইকারি বাঙ্গি ব্যবসায়ী একরাম খান, সলেমান শেখ জানান, এখন গরমকালে বাঙ্গি ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চিতলমারীতে উৎপাদিত বাঙ্গি ফল ঢাকা, খুলনাসহ মহানগরের বাজারেও যাচ্ছে। আরও বেশি জমিতে বাঙ্গি চাষ হলে দাম কিছুটা কমতো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, বাঙ্গি ফলে রয়েছে প্রচুর শর্করা, খনিজ, মিনারেল, ভিটামিন-এ এবং সি। এজন্য গরমে বাঙ্গি ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া বাঙ্গি ফলে সুগার কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, বাঙ্গির বৈজ্ঞানিক নাম Cucumis melo এবং ইংরেজি নাম Muskmelon। উপজেলায় প্রায় ৫০ একর জমিতে বাঙ্গি চাষ হয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ