মাওবাদী হামলায় নিহত ভারতীয় ২০ সেনার মৃতদেহ উদ্ধার

25

ভারতের ছত্তিশগড়ে মাওবাদী-যৌথ বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে সময় নিখোঁজ ২১ সেনার মধ্যে এখনও পর্যন্ত অন্তত ২০ জন সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরও বেশ কয়েকজন।

ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু বলছে, গতকাল (৩ এপ্রিল) শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হয় ও সংঘর্ষ। চলে অন্তত ৩ ঘণ্টা। প্রথমে ৫ জওয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে তা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। আজ রোববার (৪ এপ্রিল) ছত্তিশগড় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে।

সেনার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শনিবার সকালে ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে বিজাপুর জেলায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে নিরাপত্তা কর্মীদের একাধিক বাহিনী। ছত্তিশগড়ের ডিরেক্টর জেনারেল (নকশাল অভিযান) অফ পুলিশ অশোক জুনেজা বলেন, ‘গতকাল সংঘর্ষে ৫ জন মারা গিয়েছিলেন। আজ মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।’

শনিবার বিজাপুর ও সুকমার মাঝে দক্ষিণ বস্তারের জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে অভিযানে নামেন ২ হাজারের বেশি জওয়ান। জঙ্গলের ভেতর মাওবাদীদের সঙ্গে মুখোমুখি হতেই গুলির লড়াই শুরু হয়ে যায়। প্রায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে গুলির লড়াই। মাওবাদীদের গুলিতে মৃত্যু হয় জওয়ানদের। নিখোঁজ জওয়ানদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতেও বেশ কয়েক জন মাওবাদীদের মৃত্যু হয়। তবে সে সংখ্যাটা জানা যায়নি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলার সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতির সম্পর্কে খোঁজ নেন। অমিত শাহ সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল কুলদীপ সিংকে ছত্তিশগড় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলেন। শাহ ছত্তিশগড়ের পরিস্থিতি নিয়ে টুইটও করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল সন্ধ্যায় টুইট করেন। তিনি লেখেন, ‘এই বীর জওয়ানদের বলিদান কখনও ভোলা যাবে না।’ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় মিডিয়া জানায়, গত ১০ দিন ধরেই গোয়েন্দারা খবর পাচ্ছিলেন ওই এলাকায় কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেত্রী মাধবী হিদমা। মাধবী ২০১৩ সালের ঝিরম ঘাঁটি হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছত্তিশগড় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা-সহ ৩০ জন মারা যান সেই মাওবাদী হামলায়।

নিউজ হান্ট/আরকে