মাস্ক না পরায় কান ধরে ওঠবস

8

মাস্ক না পরার অপরাধে চার পরিবহন চালককে কান ধরে ওঠবস করিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোয়ে মেন জো।

বুধবার সরকার ঘোষিত লকডাউনের তৃতীয় দিন নগরীর খিলগাঁও-বাসাবো এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়। ডিএসসিসির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএসসিরি এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালকরা। তারা বলছেন, দেশের কোনও আইনে এমন সাজা দেওয়ার বিধান নেই। এটি চরম অপমান ও অসম্মানজনক ঘটনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার ঘোষিত লকডাউনের ৩য় দিনেও স্বাস্থ্যবিধিসহ আরোপিত অন্যান্য শর্তাবলি তদারকি এবং মশার লার্ভার বিরুদ্ধে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসসিসি)। ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) পাশাপাশি করপোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্য বিধি না মানা এবং কিছু স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় প্রায় সোয়া লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এতে আরও বলা হয়, করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা নগরীর ধানমন্ডি এলাকায় মশার লার্ভার শনাক্তকরণে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি ১৭টি ভবন পরিদর্শন করেন। অভিযানে আনোয়ার কোম্পানি লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টের জমানো পানিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়ায় ১টি মামলা দায়ের ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন স্বামীবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নবাব টাওয়ার নামক একটি অ্যাপার্টমেন্টের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে লার্ভা পাওয়ায় ১টি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফান উদ্দিন আহমেদ ওয়ারী এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, ওষুধের দোকান ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যতীত ২০টির অধিক দোকান বন্ধ করে দেন। এসময় তিনি মানুষজনকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করেন।

পাশাপাশি ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখলমুক্ত করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা নাজনিনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর কাটাবন, ধানমণ্ডি ও গ্রিনরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা ভঙ্গ করে খাবার পরিবেশন ও রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখায় ৬টি মামলা দায়ের ও ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অঞ্চল-২ এর নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়ে মেন জো বলেন, ‘খিলগাঁও-বাসাবো এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আমরা বিভিন্ন অলিতে-গলিতে অভিযান পরিচালনা করেছি। পাশাপাশি গণপরিবহনে স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কিনা সেটাও তদারকি করেছি। এসময় গণপরিবহনগুলোতে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে যাতায়াত করা এমন চারটি পরিবহন চালককে মাস্ক না পরার অপরাধে উপস্থিত জনতার সামনে কান ধরে উঠবস করানো হয়। পরবর্তীতে মাস্ক পরার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর মাস্ক না পরা এমন ৬ যাত্রীকে ঘণ্টাখানেক আটক রাখা হয়। পাশাপাশি মাস্ক না পরে বের হবেন না, এমন অঙ্গীকার নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও অনুমোদিত প্রায় ৬০টি দোকান অভিযানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর বলেন, আমরা নগরীর কামরাঙ্গীরচর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এসময় মাস্কবিহীন শতাধিক পথচারীকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করার অপরাধে একটি মাংসের দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হায়দর আলীর আদালত নগরের বাবুবাজার ব্রিজ, সদরঘাট টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকা, লক্ষ্মীবাজার, তাঁতি বাজার মোড় ও রায়সাহেব বাজার মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২০টির মতো দোকান ও শপিং মল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সন্ধ্যা সাতটার পরে নাজিরা বাজার এলাকায় দুটি দোকান খোলা রাখার অপরাধে ২টি মামলা দায়ের ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সবমিলিয়ে বুধবারের অভিযানে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নিউজ হান্ট/ম